রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান ও বনানীতে অনুমোদনহীনভাবে পরিচালিত মাদকসেবার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সিসা বার ও সিসা লাউঞ্জ বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) ন্যাশনাল ল’ ইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু এ রিট দায়ের করেন। রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি), র্যাবের মহাপরিচালক, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে।
এর আগে গত ৮ জানুয়ারি রাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলোতে গড়ে ওঠা অনুমোদনবিহীন সিসা বার ও সিসা লাউঞ্জ বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। একই সংগঠনের পক্ষ থেকে অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু এই নোটিশ দেন।
নোটিশের সঙ্গে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়। এসব প্রতিবেদনে উঠে আসে, রাজধানীর গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি ও উত্তরা এলাকায় রাত গভীর হলে গোপন আড্ডা জমে ওঠে। বাইরে থেকে এগুলো ক্যাফে বা লাউঞ্জ মনে হলেও ভেতরে সেগুলো সিসা বারে পরিণত হয়। সেখানে তামাকজাত সিসার পাশাপাশি ব্যবহৃত হয় নানা ধরনের মাদক। কোনো কোনো স্থানে অনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশে সিসা বার পরিচালনার জন্য কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন নেই। আইনগতভাবে এটি নিষিদ্ধ হলেও কার্যকর তদারকির অভাবে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে এই সংস্কৃতি বিস্তার লাভ করছে। সম্প্রতি বনানীতে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা এই অবৈধ ব্যবসার ভয়াবহ চিত্র সামনে এনে দেয়। ‘৩৬০ ডিগ্রি’ নামের একটি সিসা বার থেকে বের হওয়ার পর খুন হন ইন্টারনেট ব্যবসায়ী রাহাত হোসেন রাব্বি (৩১)। তদন্তে জানা যায়, ওই স্থানে এর আগে ‘এরাবিয়ান কজি’ নামে একটি সিসা বার চালু ছিল, যা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে বন্ধ করা হয়। তবে পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে একই ধরনের ব্যবসা আবার শুরু করে মালিকপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বাংলাদেশে সিসা বা হুক্কা কোনোভাবেই বৈধ নয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এ ধরনের কার্যক্রমের অনুমতি দেয় না। অথচ রাজধানীতে বর্তমানে শতাধিক সিসা বার সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৫০টি স্থানে তরুণ-তরুণীদের নিয়মিত আড্ডা বসে। সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে এসব আসর। উচ্চ শব্দে সংগীত বাজানো হয়, ধোঁয়ার সঙ্গে মিশে থাকে অ্যালকোহলের গন্ধ।
অনেক ক্ষেত্রে সিসার সঙ্গে ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল কিংবা লিকুইড কোকেনের মতো মাদক মেশানোর অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, রাজধানীর বহু সিসা বারে আলাদা কেবিন তৈরি করা হয়েছে। বাইরে থেকে সাধারণ বসার জায়গা মনে হলেও ভেতরে রয়েছে সাউন্ডপ্রুফ কক্ষ, যেখানে নির্দিষ্ট গ্রাহকরাই প্রবেশের সুযোগ পান। ঘণ্টাভিত্তিক ভাড়ার বিনিময়ে সেখানে সরবরাহ করা হয় সিসা, অ্যালকোহল ও অন্যান্য মাদক। পাশাপাশি যৌন কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও উঠে এসেছে।
এনএনবাংলা/পিএইচ

আরও পড়ুন
ভিন্নমতের হলেও একসঙ্গে আলাপ করা, কথা বলাই গণতন্ত্রের অংশ: জাইমা রহমান
ইরানে বিক্ষোভ-সহিংসতায় নিহত বেড়ে ৫ হাজার
প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের চ্যালেঞ্জ