February 12, 2026
Wednesday, January 21st, 2026, 6:18 pm

রংপুরে ছয় আসনে শুরু হলো ভোটের লড়াই

রংপুর ব্যুরো:

রংপুরেও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে। জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৪৫ জন প্রার্থীর হাতে প্রতীক তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে রংপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো নির্বাচনী লড়াই।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম শুরু হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের হাতে নিজ নিজ প্রতীক তুলে দেন। প্রতীক বরাদ্দের পরপরই প্রার্থীদের মধ্যে দেখা গেছে উৎসাহ-উদ্দীপনা, আর মাঠপর্যায়ে শুরু হয়েছে জোর প্রস্তুতি ও প্রচারণার তোড়জোড়।প্রথমে রংপুর-১ আসনের প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে জেলার বাকি পাঁচটি আসনের প্রার্থীদের প্রতীক প্রদান করা হয়।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, রংপুর-১ আসনে ৬ জন, রংপুর-২ আসনে ৫ জন, রংপুর-৩ আসনে ৮ জন, রংপুর-৪ আসনে ৮ জন, রংপুর-৫ আসনে সর্বোচ্চ ১০ জন এবং রংপুর-৬ আসনে ৮ জন প্রার্থী নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। সব মিলিয়ে জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫ জন।

প্রতীক বরাদ্দকে ঘিরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। জাতীয় পার্টি, বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নিজ নিজ প্রতীক গ্রহণ করেন। এ সময় প্রার্থীদের সমর্থকরা নানা স্লোগান ও মিছিলে মুখর করে তোলেন পুরো এলাকা। অনেক প্রার্থী প্রতীক হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ ও প্রচারণার প্রস্তুতি শুরু করেন।

রংপুরের নির্বাচনী মাঠে এবার ত্রিমুখী ও বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে। জাতীয় পার্টি, বিএনপি, জামায়াতসহ একাধিক রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ছয়টি আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে রাজনৈতিক সমীকরণে কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেছে রংপুর-৪ আসনে। এখানে জামায়াত তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে এনসিপিকে ছেড়ে দেওয়ায় ভোটের হিসাব-নিকাশে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। অন্যদিকে রংপুর-১ গঙ্গাচড়া আসনে এনসিপি তাদের দলীয় প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে জামায়াতকে সমর্থন দিয়েছে।

এদিকে রংপুর-৩ সদর আসনটি এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত হয়ে উঠেছে। এই আসনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের, বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের পাশাপাশি তৃতীয় লিঙ্গের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোছা: আনোয়ারা ইসলাম রানি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁর প্রার্থিতা ভোটারদের মধ্যে আলাদা কৌতূহল সৃষ্টি করেছে এবং নির্বাচনী আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে রংপুরে নির্বাচনী প্রতিযোগিতা এখন আরও দৃশ্যমান হয়েছে। শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আচরণবিধি মেনে প্রার্থীরা যেন প্রচারণা চালান, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকবে বলেও জানানো হয়।

প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে আজ থেকেই রংপুরের ছয় আসনে জাতীয় পার্টি, বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা পুরোদমে মাঠে গড়াতে শুরু করেছে। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসবে, রংপুরের রাজনীতির উত্তাপ ততই বাড়বে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।##