February 12, 2026
Thursday, January 22nd, 2026, 3:28 pm

ওবায়দুল কাদের-আরাফাত-সাদ্দামসহ সাতজনের বিচার শুরু

 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলের শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আজ বৃহস্পতিবার আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।

এ মামলার সাতজন আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। ওবায়দুল কাদের ছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন— আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।

এর আগে গত ১৮ জানুয়ারি প্রসিকিউশন ও পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীদের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আজকের দিনটি আদেশ ঘোষণার জন্য নির্ধারণ করেন। সেদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। তারা শুনানিতে প্রত্যেক আসামির ব্যক্তিগত দায় তুলে ধরেন এবং ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে আনা তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাঠ করে শোনান।

অন্যদিকে পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহান শুনানি করেন। তারা আদালতে দাবি করেন, তাদের মক্কেলদের সঙ্গে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণের অভাব দেখিয়ে তারা আসামিদের অব্যাহতি দিয়ে অভিযোগ গঠন না করার আবেদন জানান।

উল্লেখ্য, গত ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (ফরমাল চার্জ) দাখিল করলে ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেন। পরবর্তীতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর গত ২৯ ডিসেম্বর আসামিদের গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার কথা থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের কোনো ঠিকানায় খুঁজে পায়নি। এরপর ৩০ ডিসেম্বর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে তাদের হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এনএনবাংলা/পিএইচ