Thursday, January 22nd, 2026, 8:23 pm

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন: জামায়াতের সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির এক কূটনীতিক সম্প্রতি ঢাকাভিত্তিক নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানিয়েছেন। তাদের কথোপকথনের একটি অডিও পেয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট।

ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, ওই অডিওতে মার্কিন কূটনীতিক উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ইসলামপন্থার দিকে ঝুঁকছে এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আসন পেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চায়।

তিনি সাংবাদিকদের জানান, জামায়াত নির্বাচিত হলেও শরীয়াহ আইন চালু করবে না, কারণ দেশটিতে উচ্চশিক্ষিত জনগণ রয়েছে এবং পোশাক শিল্পে ২০ শতাংশ রপ্তানি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল। “যদি জামায়াত শরীয়াহ আইন চালু করে, তবে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে এবং অর্থনীতি সংকটে পড়বে,” মন্তব্য করেন কূটনীতিক।

তিনি আরও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র শুধুমাত্র জামায়াত নয়, হেফাজতে ইসলাম ও ইসলামি আন্দোলনের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারে। তিনি বলেন, “আমরা চাই তারা আমাদের বন্ধু হোক। কারণ আমরা চাই আমাদের কাছে এমন সুযোগ থাকবে আমরা ফোন দিয়ে বলব ‘আমরা যা বলেছি সেভাবে ব্যবস্থা নেব’।”

ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র মোনিকা শিই ওয়াশিংটন পোস্টকে জানিয়েছেন, “এই আলোচনাটি গত ডিসেম্বরে নিয়মিত বৈঠকের অংশ ছিল। তবে এসব কথাবার্তা সাধারণত বাইরে প্রকাশ করা হয় না।”

যুক্তরাষ্ট্র জামায়াতের মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমান বলেছেন, “ব্যক্তিগত কূটনৈতিক বৈঠকের বিষয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করি না।”

তবে তিনি জানিয়েছেন, ২০২৪ সালে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের পর ওয়াশিংটনে জামায়াত-যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের চারবার বৈঠক হয়েছে। অপরদিকে ঢাকায় বেশ কয়েকটি বৈঠক হয়েছে। এছাড়া গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জ্যামিসন গ্রেয়ারের সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠক হয় জামায়াতের।

আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জটিল করতে পারে, কারণ ভারত জামায়াতকে পাকিস্তানের মিত্র হিসেবে দেখে।”

এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও মন্তব্য করেছেন ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের এ কর্মকর্তা। তিনি বলেছেন, “হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করা রাজনৈতিকভাবে বেশ জিনিয়াস ছিল। যদিও এ আদালত শতভাগ স্বচ্ছ বা নিরপেক্ষ ছিল না। কিন্তু হাসিনা ছিলেন দোষী। যা তারা তাদের ম্যান্ডেটের মধ্যে থেকে প্রমাণ করেছে। যা সত্যিই অসাধারণ ছিল।”

সুত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট

এনএনবাংলা/