Saturday, January 24th, 2026, 1:31 pm

মার্কিন হামলার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে ফ্লাইট বাতিল একাধিক বিমান সংস্থার

 

ইরানের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল নৌবহর অগ্রসর হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে দেওয়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বার্তার পর মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক হামলার আশঙ্কায় বিশ্বের বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় বিমান সংস্থা ওই অঞ্চলে তাদের ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সিদ্ধান্তের ফলে ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় নিয়ে এয়ার ফ্রান্স জানিয়েছে, ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি তাদের দুবাইগামী সব ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।

একই পথে হেঁটেছে কেএলএম রয়্যাল ডাচ এয়ারলাইন্সও। সংস্থাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য দুবাই, রিয়াদ, দাম্মাম ও তেলআবিবে তাদের ফ্লাইট কার্যক্রম স্থগিত করেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কেএলএম স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তাদের বিমানগুলো এখন ইরান, ইরাক, ইসরায়েলসহ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক দেশের আকাশসীমা সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলবে।

এদিকে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স ও এয়ার কানাডাও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ইসরায়েলগামী ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ রেখেছে। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রমবর্ধমান যুদ্ধের আশঙ্কা, বীমা ঝুঁকি এবং যাত্রীদের নিরাপত্তাই বিমান সংস্থাগুলোকে এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।

বর্তমান উত্তেজনার সূত্রপাত মূলত গত বছরের ডিসেম্বরে ইরানে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে। বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকারের কঠোর অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি একাধিকবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সরাসরি সামরিক হামলার পথ বেছে নিতে পারে।

গত সপ্তাহে এক দফা হামলার পরিকল্পনা থেকে ট্রাম্প সরে এসেছেন—এমন গুঞ্জন শোনা গেলেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তাঁর আক্রমণাত্মক বক্তব্য এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে নৌবহর পাঠানোর ঘোষণা নতুন করে যুদ্ধের শঙ্কা উসকে দিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা কেবল আকাশপথেই সীমাবদ্ধ নেই। এর প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপরও। ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের ‘কড়া নজরদারি’র ঘোষণার পর থেকেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এক ধরনের স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়েছে।

বিমান সংস্থাগুলোর একের পর এক ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মহলে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কাকেই আরও জোরালো করে তুলছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে হাজার হাজার যাত্রী আটকা পড়েছেন। বিকল্প পথে যাতায়াত করতে গিয়ে তাদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত সময় ও অর্থের মূল্য।

সূত্র: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস

এনএনবাংলা/পিএইচ