ভারতের সঙ্গে বিএনপির কোনো ধরনের চুক্তির বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমীন। তিনি বলেন, এ নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) গুলশান-৯০ নম্বর রোডে অবস্থিত বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মাহদী আমীন জানান, একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী একজন নেতা ভারতের সঙ্গে বিএনপির তথাকথিত চুক্তির বিষয়ে যে দাবি তুলেছেন, তা মূলত একটি গণমাধ্যমের বক্তব্যের ওপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, “স্বাভাবিকভাবেই ওই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করতে পারেননি এবং পারবেনও না। কারণ, এই দাবির কোনো ন্যূনতম বাস্তবতা বা সত্যতা নেই।”
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে বিতর্ক সৃষ্টি করার একটি অপকৌশল। “যদি ভুল তথ্য দিয়ে তাকে বিভ্রান্ত করা হয়ে থাকে এবং তিনি তা প্রচার করেন, তাহলে সেটি তার অজ্ঞতা। আর যদি জেনেশুনে করা হয়ে থাকে, তাহলে তা স্পষ্ট অপপ্রচার। যেভাবেই হোক, ভারতের সঙ্গে বিএনপির চুক্তির যে কথা বলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত,” যোগ করেন তিনি।
গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা প্রসঙ্গে মাহদী আমীন বলেন, বিএনপি ইতিবাচক ও গঠনমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। “অপপ্রচার বা অপরাজনীতির কোনো জায়গা এখানে নেই। বিএনপির রাজনীতি মানেই বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি। আমাদের নেতা তারেক রহমানের রাজনীতির কেন্দ্রে রয়েছে দেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের ক্ষমতায়ন—সবার আগে বাংলাদেশ।”
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড নিয়ে তিনি বলেন, “এই কার্ড দেওয়ার নামে কেউ যদি টাকা দাবি করে, তা সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত ও অবৈধ।” তিনি অভিযোগ করেন, একটি প্রতারক চক্র পরিকল্পিতভাবে বিতর্ক তৈরির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন এলাকায় ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়ার কথা বলে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে।
মাহদী আমীন জানান, নারীর ক্ষমতায়ন ও কৃষকের উন্নয়নের লক্ষ্যে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন, তা ইতিমধ্যে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে এবং জনগণের প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিএনপি জনগণের ভোটে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে, এসব কার্ড সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ও সঠিক উপকারভোগীদের হাতে রাষ্ট্রের উদ্যোগে পৌঁছে দেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ শনিবার রাতে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। আগামীকাল (২৫ জানুয়ারি) সকালে তিনি চট্টগ্রামের একটি হোটেলে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীকে নিয়ে ‘ইউথ পলিসি টক’-এ অংশ নেবেন।
এরপর তিনি চট্টগ্রামের পোলগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। সেখান থেকে পাইলট হাইস্কুল মাঠে আরেকটি নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেবেন। পরবর্তী সফরে তিনি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম হাইস্কুল মাঠ, সোনাগাজীর দিকবাজির মাঠ এবং দাউদকান্দি উপজেলার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে তিনটি পৃথক নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দেবেন। পথে নারায়ণগঞ্জের কাজলামাঠে একটি নির্বাচনী সমাবেশেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের একটি অংশ তারেক রহমানের সফরসঙ্গী হবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
এনএনবাংলা/পিএইচ

আরও পড়ুন
আমরা যুবকদের বেকার ভাতা দেব না, দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলব
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোকোর কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান
বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দিলো আইসিসি