ঢাকা-৯ সংসদীয় আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। শনিবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এটি প্রকাশ করেন।
ডা. তাসনিম জারা লিখেছেন, “ঢাকা-৯ এই শহরের প্রাণ, অথচ আমাদের সঙ্গে আচরণ হয় বিমাতাসুলভ। আমরা গুলশান-বনানীর সমান ট্যাক্স দিই, সমান বিল দিই, কিন্তু সেবা পাই তৃতীয় শ্রেণির। ভোটের সময় নেতারা আসেন, ভোট নেন, তারপর উধাও হয়ে যান। রাষ্ট্র আমাদের এটিএম মেশিন ভাবেন—টাকা নেওয়ার সময় থাকেন, সেবা দেওয়ার সময় নেই। আমি পেশাদার রাজনীতিবিদ নই, আমি এই এলাকার মেয়ে। আমার কথা পরিষ্কার: ঢাকা-৯-এর অবহেলার দিন শেষ। আমাদের অধিকারও সমান, এবার ন্যায্য পাওনা আমরা নিজেই নিশ্চিত করব।”
১. গ্যাস, রাস্তা ও জলাবদ্ধতা: বাসযোগ্য ঢাকা-৯ চাই
সমস্যা: প্রতি মাসে আমরা গ্যাসের বিল দিচ্ছি, কিন্তু সেবা পাচ্ছি না। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে আমাদের জিম্মি করছে। এর সঙ্গে যুক্ত জলাবদ্ধতা, বর্জ্য সমস্যা এবং দীর্ঘদিন ভাঙাচোরা রাস্তা।
সমাধান:
ন্যায্য বিল: সংসদে “সেবা না দিলে বিল নেই” নীতির খসড়া আইন প্রস্তাব করব। গ্যাস না থাকলে বিল মওকুফ হবে।
সিন্ডিকেট ভাঙা: সরকারকে বাধ্য করব এলপিজি সিলিন্ডার ন্যায্য মূল্যে সরবরাহ করতে। দাম বাড়ালে প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে চাপ দিব।
জলাবদ্ধতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, খাল ও নর্দমা পরিষ্কার রাখার ব্যবস্থা নেব। বাড়ি ও রাস্তার সামনে ময়লা জমতে দেওয়া হবে না। পার্কে হাঁটার পরিবেশ উন্নত করা হবে।
সমন্বয় ও জবাবদিহিতা: রাস্তা কাটার কাজ নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শেষ হবে। ডেডলাইন মিস করলে ঠিকাদার জরিমানা গুনবে।
২. স্বাস্থ্য: চিকিৎসায় অবহেলা আর নয়
সমস্যা: ঢাকা-৯-এ ৭-৮ লাখ মানুষ থাকলেও বড় হাসপাতাল মাত্র একটাই—মুগদা মেডিকেল। রোগীরা সেবা না পেয়ে ভুগছেন, ডেঙ্গুর সমস্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
সমাধান:
মুগদা হাসপাতালে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ ও আধুনিক যন্ত্রপাতি সচল রাখার উদ্যোগ নেব।
কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে ‘মিনি-হাসপাতাল’ হিসেবে উন্নত করব।
সারা বছর ‘ডেঙ্গু টাস্কফোর্স’ গঠন করব।
নারী স্বাস্থ্য: গর্ভবতী মায়েদের সাশ্রয়ী চিকিৎসা এবং নারী-বান্ধব টয়লেট ও ব্রেস্টফিডিং সুবিধা নিশ্চিত করব।
৩. নিরাপত্তা: মাদক ও অপরাধমুক্ত ঢাকা
সমস্যা: এলাকা এখন মাদক সিন্ডিকেটের দখলে। সন্ধ্যার পর মহিলা ও শিশুরা বের হতে ভয় পান।
সমাধান:
‘নিরাপদ করিডোর’: গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় সিসি ক্যামেরা ও ল্যাম্পপোস্ট বসাব।
মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করব।
নারীবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করব, সংরক্ষিত আসন ও নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা করব।
৪. শিক্ষা: আমাদের সন্তানদের জন্য সুগঠিত ব্যবস্থা
সমস্যা: ঘন ঘন পরিবর্তিত নীতি, ভর্তি বাণিজ্য ও অপরিকল্পিত কারিকুলামের কারণে শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার শিকার
সমাধান:
এমপির কোনো কোটা থাকবে না; ভর্তি হবে কেবল যোগ্যতার ভিত্তিতে।
স্কুলগুলোতে আধুনিক সায়েন্স ল্যাব, কোডিং ও ভাষা ক্লাব প্রতিষ্ঠা। লাইব্রেরি ও মানসিক স্বাস্থ্য সহ-শিক্ষা নিশ্চিত করা।
স্কুলে অভিভাবক-শিক্ষক ফোরাম প্রতিষ্ঠা ও বুলিং প্রতিরোধ করা।
৫. অর্থনীতি ও জীবিকা: মেধা সবাইকে সমান সুযোগ
সমস্যা: বেকারত্ব, ঋণের অসুবিধা, ডে-কেয়ারের অভাব ও অনানুষ্ঠানিক খাতে শ্রমিকের অধিকার ক্ষুণ্ণ।
সমাধান:
‘স্টার্ট-আপ ঢাকা-৯’ ফান্ডের মাধ্যমে তরুণ উদ্যোক্তাদের সহজ ঋণ সুবিধা।
সরকারি বা ভর্তুকি ডে-কেয়ার সেন্টার চালু করা।
শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য মজুরি ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য ই-কমার্স প্রশিক্ষণ ও অনলাইন মার্কেট অ্যাক্সেস প্রদান।
৬. এমপির জবাবদিহিতা: আমি আপনার ঘরের মেয়ে
সমস্যা: ভোটের আগে নেতা আসে, ভোটের পরে অদৃশ্য।
সমাধান:
নির্বাচিত হওয়ার এক মাসের মধ্যে স্থায়ী কার্যালয় চালু করব, সন্ধ্যায়ও খোলা থাকবে।
ডিজিটাল ড্যাশবোর্ডে অভিযোগের আপডেট দেখা যাবে।
প্রটোকল নয়, সরাসরি আপনার সমস্যা শোনা হবে এবং সমাধান করা হবে।
ডা. তাসনিম জারা আরও লিখেছেন, “আমি কোনো পেশাদার রাজনীতিবিদ নই। আমি ডাক্তার, জানি সমস্যা কোথায় এবং সমাধান কী। ঢাকা-৯-এর ভাগ্য বদলাতে, গ্যাস-পানির অধিকার আদায় করতে এবং মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে আসন্ন নির্বাচনে ‘ফুটবল’ মার্কায় ভোট দিন। আপনারা আমার শক্তি, আমি আপনার কণ্ঠস্বর হব। বিজয় আমাদের হবেই, ইনশাআল্লাহ।”
এনএনবাংলা/পিএইচ


আরও পড়ুন
পাকিস্তান সিরিজ দিয়ে ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু বাংলাদেশের
মাদারীপুরে হত্যাকাণ্ডের জেরে হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘাটিয়ে ৪০ বসতঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট
জ্বালানি সংকটে কমেছে দূরপাল্লার বাসের ট্রিপ, ঈদযাত্রায় ভোগান্তির শঙ্কা