বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি ছাড়া এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দল দেশের মানুষের সামনে দেশ পরিচালনার একটি সুস্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে পারেনি। তার অভিযোগ, পরিকল্পনা দেওয়ার পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা কেবল বদনাম ও সমালোচনাতেই ব্যস্ত রয়েছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘৫ আগস্টের পরিবর্তনের পর দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেড়েছে। সেই প্রত্যাশা পূরণ করাই এখন আমাদের দায়িত্ব। বিএনপির দেশ পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমরা জানি কীভাবে পরিকল্পনা করতে হয় এবং তা বাস্তবায়ন করতে হয়।’
তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় এলে ধাপে ধাপে ঘরে ঘরে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা কখনোই বলিনি, একটি পরিবারের সব দায়িত্ব সরকার নেবে। তবে একটি নির্বাচিত সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদের মধ্যেই যত দ্রুত সম্ভব ফ্যামিলি কার্ড মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।’
কৃষকদের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সার, বীজসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরাসরি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। এ নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ বলছে আমরা নাকি ধোঁকা দিচ্ছি। আমি যদি মানুষকে ধোঁকা দিই, তাহলে ভবিষ্যতে তারা আমাকে বিশ্বাস করবে কেন? রাজনীতিতে কথা দিয়ে কথা রাখতে হয়।’
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হলে সারা দেশে খাল খনন কার্যক্রম শুরু করার ঘোষণা দেন তিনি। বলেন, সরকার গঠন করতে পারলে চৌদ্দগ্রাম থেকেই খাল খননের উদ্বোধন করা হবে।
বেকারত্ব নিরসনে তারেক রহমান বলেন, বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশ ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই অঞ্চলের অনেক মানুষ মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করতে যায়। প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা গেলে তারা আরও ভালো চাকরির সুযোগ পাবে। পাশাপাশি ঘরে বসে উৎপাদনমুখী কাজে যুক্ত নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ক্ষুদ্র ঋণ এবং পণ্য রপ্তানির ব্যবস্থার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
ধর্মীয় সেবার বিষয়ে তিনি বলেন, মসজিদের ইমাম ও খতিবদের জন্য মাসিক সম্মানী ভাতা চালু করা হবে। পাশাপাশি তাদের কম্পিউটারসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ পান।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনা না করার ব্যাখ্যায় তারেক রহমান বলেন, ‘আমি চাইলে এখান থেকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করতে পারতাম। কিন্তু তাতে মানুষের কোনো উপকার হবে না। গীবত করে মানুষের পেট ভরবে না। মানুষ জানতে চায়, আমি তাদের জন্য কী করতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষের নিরাপত্তা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য। ‘মানুষ চায় পরিবার নিয়ে নিরাপদে ভালো থাকতে। আমরা সেই নিশ্চয়তা দিতে চাই।’
সমাবেশ শেষে তারেক রহমান উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে স্লোগান দেন—
“করব কাজ, গড়ব দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ।”
এর আগে দুপুর থেকেই চৌদ্দগ্রাম এইচ. জে. পাইলট সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও আশপাশের এলাকায় নেতাকর্মীদের ঢল নামে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে সমাবেশস্থলে পৌঁছালে তারেক রহমান উপস্থিত জনতার উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমিন-উর-রশীদ ইয়াছিন, কুমিল্লা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা-১১ আসনের প্রার্থী মো. কামরুল হুদা, কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না এবং জাতীয় পার্টি (জাফর) নেতা কাজী নাহিদ।
এনএনবাংলা/পিএইচ

আরও পড়ুন
সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল একসঙ্গে ঘোষণা হবে: ইসি আখতার
ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমার পদত্যাগের ঘোষণা
নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীকে পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষ ভূমিকার নির্দেশনা প্রধান উপদেষ্টার