যুক্তরাজ্যে দারিদ্র্যের হার গত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ৬৮ লাখ মানুষ ‘অতিদরিদ্র্য’ অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) প্রকাশিত জোসেফ রাউনট্রি ফাউন্ডেশন (জেআরএফ)–এর এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সামগ্রিক দারিদ্র্যের হার সামান্য কমলেও অতিদরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশে। ‘অতিদরিদ্র’ বলতে বোঝানো হয়েছে সেই পরিবারগুলোকে, যাদের আবাসন ব্যয় পরিশোধের পর অবশিষ্ট আয় দেশটির মধ্যম আয়ের ৪০ শতাংশেরও কম। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, দুটি সন্তানসহ একটি দম্পতির ক্ষেত্রে বছরে এই আয় মাত্র আনুমানিক ১৬ হাজার ৪০০ পাউন্ড।
প্রতিবেদনের সবচেয়ে আতঙ্কজনক দিক হলো শিশুদারিদ্র্যের দ্রুত বৃদ্ধি। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের প্রায় ৪৫ লাখ শিশু দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে উঠছে, যা দেশটির ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। টানা তিন বছর ধরে শিশুদারিদ্র্য বাড়তে থাকায় বিষয়টি নিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ।
‘টু-চাইল্ড ক্যাপ’ বাতিলের ঘোষণা
এই পরিস্থিতিতে লেবার সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী এপ্রিল থেকে কল্যাণসুবিধায় থাকা ‘দুই শিশুর সীমা’ (টু-চাইল্ড ক্যাপ) বাতিল করা হবে। ২০১৭ সালে কনজারভেটিভ সরকার এই সীমা চালু করেছিল, যার ফলে স্বল্প আয়ের পরিবারগুলো তৃতীয় সন্তানের জন্য অতিরিক্ত সরকারি সহায়তা পেত না। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ৩১০ কোটি পাউন্ড।
বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি কমিউনিটিতে দারিদ্র্য বেশি
জেআরএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে দারিদ্র্যের হার জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষ করে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত কমিউনিটিগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। দারিদ্র্যের এই সংকটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দাতব্য সংস্থা বিগ ইস্যু–এর প্রতিষ্ঠাতা জন বার্ড এই প্রতিবেদনকে “সমাজের জন্য অত্যন্ত খারাপ খবর” বলে মন্তব্য করেছেন।
তার মতে, আবাসন সংকট এবং নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি নিম্ন আয়ের মানুষদের ক্রমেই চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
যদিও সরকার টু-চাইল্ড ক্যাপ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তবে জোসেফ রাউনট্রি ফাউন্ডেশন সতর্ক করে বলেছে—এটি যথেষ্ট নয়। শিশুদারিদ্র্য পুরোপুরি নির্মূল করতে হলে সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগত অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লন্ডন ও উত্তর ইংল্যান্ডের শিল্পাঞ্চলে বসবাসরত ব্রিটিশ মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীরা মুদ্রাস্ফীতির সরাসরি প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভব করছেন।
এনএনবাংলা/

আরও পড়ুন
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ, অভিযোগ বিএনপির বিরুদ্ধে
জামায়াত ক্ষমতায় গেলে পরিবারতন্ত্রের রাজনীতির অবসান হবে: ডা. শফিকুর রহমান
মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে টেকনাফে ২ কিশোর আহত