রংপুর ব্যুরো:
কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি রপ্তানি নিয়ে ২০১৮ সালে রংপুর নগরীর খলিশাকুড়ি এলাকায় ১০.৭৭ একর জমির ওপর নির্মীয়মাণ অত্যাধুনিক হাই-টেক পার্ক প্রকল্পের কাজ তিন বছর পার হলেও শেষ হয়নি। এখন পর্যন্ত মাত্র ৪০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে। ধীরগতির এই নির্মাণকাজ প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন তুলছে এলাকাবাসী।
রংপুরে হাই-টেক পার্ক নির্মাণের ঘোষণা আসার পর প্রযুক্তিপ্রেমী তরুদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছিল।কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি রপ্তানি এবং উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বপ্ন দেখেছিলেন তাঁরা। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। দুই দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলেও এখনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি নেই। ফলে রংপুরের তরুণসমাজের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাচ্ছে।মাল্টিটেনেন্ট ভবন হবে সাত তলার (স্টিল স্ট্রাকচার)। তিনতলায় ক্যান্টিন ও অ্যাম্ফিথিয়েটার। আড়াই হাজার তরুণ-তরুণী প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন। সরকারের তথ্য-প্রযুক্তি খাতের বিকাশ এবং উত্তরাঞ্চলে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে ২০১৭ সালে একনেক দেশের বিভিন্ন স্থানে ১২টি হাই-টেক পার্ক নির্মাণের অনুমোদন দেয়।
এসব প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয় প্রায় এক হাজার ৮০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে রংপুর হাই-টেক পার্ক প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ১৫৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। ২০১৮ সালে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ পায় ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এলঅ্যান্ডটি। তবে নানা জটিলতায় ২০২০ সালে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলেও বাস্তবে কাজ এগোয়নি। দীর্ঘ সময় প্রকল্পটি কার্যত সাইনবোর্ডেই সীমাবদ্ধ ছিল।
পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে প্রথমে ২০২২ সালের জুন এবং পরে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়। সব শেষ ২০২২ সালের মে মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাণকাজ শুরু হলেও তিন বছরে অগ্রগতি খুবই ধীর। স্থানীয় বাসিন্দা আলী হোসেন বলেন, তিন বছরে যদি মাত্র ৪০ শতাংশ কাজ হয়, তাহলে এই প্রকল্প কবে শেষ হবে? তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কাজ চলমান এবং ধাপে ধাপে অগ্রগতি হচ্ছে।
রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিরাজুল ইসলাম বলেন, বর্তমান যুগ তথ্য-প্রযুক্তির। বিশ্ব যখন এআই নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, আমরা তখনো তাত্ত্বিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ। হাই-টেক পার্ক চালু হলে ব্যাবহারিক শিক্ষা, গবেষণা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতো। রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান জানান, হাই-টেক পার্কের কাজ শুরু ও গতিশীল করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও আলোচনা চলছে।

আরও পড়ুন
‘হ্যাঁ ভোট দিলে দেশের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে’ : রংপুরে জি.এম কাদের
নওগাঁয় ডাম্প ট্রাকের চাপায় ৫ আদিবাসী কৃষক নিহত
১২ তারিখ ধানের শীষের সঙ্গে ‘হ্যাঁ’ ভোটও দেবেন: তারেক রহমান