রংপুর প্রতিনিধি:
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, গণঅভ্যূত্থানে রংপুরের আবু সাঈদ, চট্টগ্রামের ওয়াসিসহ যারা জীবন উৎসর্গ করেছে, এমন হাজারো মানুষের জীবন উৎসগর্কে মূল্যায়ন করতে আমাদের জুলাই সনদকে সম্মান করতে হবে। এজন্য সকলের প্রতি অনুরোধ, ধানের শীষে সিলের সাথে দ্বিতীয় ব্যালেটে হ্যাঁ-এর পক্ষে আপনারা রায় দেবেন।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারী) রাতে রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে রংপুর বিভাগীয় নির্বাচনী জনসভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচার সরকারের আমলে বিএনপি ৩১ দফা সংস্কারে প্রস্তাব দিয়েছিল। পরবর্তীতে অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার এসে সংস্কার কমিশন করলো এবং কম-বেশি রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সংস্কার প্রস্তাবনা দিয়েছিল। সরকারের সংস্কার প্রস্তাবনায় আমাদের কিছু জায়গায় দ্বিমতও ছিল, সেগুলো আমরা লুকাছুপি করিনি। আমরা জনগণের সামনে প্রকাশ্যে বলেছি কোনটিতে সম্মতি দিয়েছি আর কোনটিতে আমাদের দ্বি-মত রয়েছে।
তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছরের মত নির্বাচন এবার হতে দেব না। ১২ তারিখ ফজরের পর ভোটকেন্দ্রে যাবেন। জনগণ এবার সিদ্ধান্ত নেবে তারা কি করবে। কাজেই মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান যে যেখানে আছেন সকলে প্রত্যেকে সকাল সকাল ভোট সেন্টারে গিয়ে লাইনে দাঁড়াবেন। যাতে কেউ ষড়যন্ত্র করতে না পারে।
তিনি আরও বলেন, একটি দল গেল কয়েকদিন ধরে আমাদের সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলছে। তারা বলেছিলেন, তাদের দু’জন সদস্য আমাদের সরকারের আমলে মন্ত্রী ছিলেন। তারা বলেছেন তাদের মন্ত্রীরা ভাল ছিল, আর আমাদের মন্ত্রীরা খারাপ ছিল। আমার প্রশ্ন হলো ভালো মানুষের সাথে ভাল মানুষ থাকে। তাদের মানুষ যদি ভালই হয় আর বিএনপি যদি খারাপই হয়, তাহলে পুরো মেয়াদে কেন তারা আমাদের সাথে ছিল। খালেদা জিয়া দূর্নীতি দমনে সফল ছিলেন। তাই বিএনপি’র পক্ষেই সম্ভব দেশে দূর্নীতি দমন করা।

তারেক রহমান বলেন, আমাদের শক্তি হচ্ছে জনগণ, তাই আমরা দেশের জনগণের কাছে ফিরে যেতে চাই। আসুন আজ সময় এসেছে ষড়যন্ত্রের জবাব দেয়ার। আজ সময় এসেছে শহীদ আবু সাঈদের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের। সব সময় সৎ সুযোগ আসে না। যেহেতু দেশ পরিচালনার জন্য সৎ সুযোগ এসেছে, তাই এই সুযোগকে দেশের কাজে, জনগণের স্বার্থে ব্যবহার করতে হবে। যেন আমরা আগামী দিনে সুন্দর ও প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হই।
তিনি বলেন, দেশকে গড়ে তুলতে হলে সকলকে এক সাথে পরিশ্রম করতে হবে। তাহলে উত্তরাঞ্চলসহ রংপুর বিভাগ কখনই মঙ্গাপীড়িত থাকবে না। কোনভাবে অনুন্নত থাকতে পারে না। এই অবস্থা পরিবর্তনের জন্য আপনাদের সমর্থন লাগবে। আবু সাঈদের প্রত্যাশিত দেশ গড়ার জন্য আগামী ১২ তারিখে বিএনপিকে বিজয়ী করতে হবে এবং ১৩ তারিখ বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশের উন্নয়নে কাজে হাত দেব।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন কররে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। খাল খনন করা হবে, বন সংরক্ষণসহ উত্তরের মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। এই কাজ গুলো আমরা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করবো।
তিনি বলেন, রংপুর বিভাগ গরীব অঞ্চল আমি মনে করি না। এটি একটি সম্ভাবনাময় অঞ্চল। শুধু দরকার সঠিক পরিকল্পনা ও সঠিক নেতৃত্ব। তাহলে এ বিভাগের আমূল পরিবর্তন হতে পারে। জিয়াউর রহমান দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে বোরো আবাদ চালু করেছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া দেশ পরিচালনার করার সময় আমরা দেখেছি উত্তরের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ দারিদ্র সীমা থেকে বেরিয়ে এসেছিল। কিন্তু আমরা বিগত ১৬ বছর ধরে দেখেছি যতগুলো মানুষ দারিদ্রসীমা থেকে বেরিয়ে এসেছিল, তথাকথিত উন্নয়নের নামে লুটপাট হয়েছে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে টিকিয়ে রাখার জন্য নতুন ব্যবসা-বাণিজ্য, মিল-কারখানা কোন কিছু এখানে করা হয়নি। শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের সময় আমি জানতে পারলাম রংপুরে কয়লা আছে। এই কয়লা যদি আমরা উত্তোরণ করতে পারি, তাহলে আমরা অনেক কিছু পরিবর্তন করতে পারবো।
কৃষি নিয়ে তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছর দেশের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি কৃষকদের নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। কৃষিজাত পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে দেশের কৃষকরা কষ্টের সম্মুখীন হয়েছে। সেজন্য আমরা হিসাব করেছি যেসমস্ত কৃষক ভাইদের ঋণ ১০ হাজার টাকা নিচে রয়েছে, ক্ষমতায় গেলে তাদের সুদসহ কৃষি ঋণ মওকুফ করা হবে। শুধু তাই নয়, যারা নিবন্ধিত এনজিও থেকে ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণ করেছে, আগামী ১২ তারিখ বিএনপি নির্বাচিত হলে তাদের সেই ঋণ পরিশোধ করতে হবে না।

শিল্পকারখানা সম্পর্কে তিনি বলেন, আগামীতে বিএনপি সরকার গঠন করলে উত্তরে যারা ব্যবসা-বাণিজ্য করতে চায় তাদের বিশেষ সুবিধা দেব। যেন তারা এখানে মিল ফ্যাক্টরী স্থাপনের কাজ শুরু করেন। এর ফলে এই এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। আইটি কোম্পানীগুলোকে এখানে এসে কোম্পানী করার প্রস্তাব দেয়া হবে। যেন এই এলাকার ছেলে মেয়েরা সেখানে কাজ করতে পারে। কোম্পানীগুলোকে আমরা নির্দিষ্ট মেয়াদে করছাড় দেব।
নারীদের বিষয় তিনি বলেন, আমাদের দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা হচ্ছে নারী। তাদের পেছনে ফেলে রাখা যাবে না। নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে হবে। এজন্য প্রতিটি ঘরে ঘরে মা-বোনদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেয়া হবে। সেই কার্ডের মাধ্যমে গৃহিনী মায়েদের কাছে সহযোগিতা পৌঁছে দিতে চাই। এর কারণে নারীরা ধীরে ধীরে সাবলম্বী হবে এবং অর্থনীতির উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে। সেই সাথে প্রত্যেক কৃষক ভাইয়ের কাছে কৃষি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। আমরা নির্বাচিত হলে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা ঋণ থাকলে তা মওকুফ করার ব্যবস্থা করবো। সেই সাথে কার্ডের মাধ্যমে জমি অনুযায়ী অনন্ত একটি ফসলের বীজ, সার, কীটনাশক তাদের হাতে তুলে দিতে চাই।
কাজেই সেই নিবরাপদ ব্যবস্থাকে তৈরী করতে হলে তাহলে আপনাদের সশর্থন লাগবে। অপনাদের সমর্থন থাকলে নিরাপদ ব্যবস্থা বিএনপি দেশে প্রতিষ্ঠিত করতে পাবে। বিএনপি অতীত ইতিহাস আছে আইন শৃঙ্কলা নিয়ন্ত্রণ করতে হয় বিএনপি অতীতে দেখিয়েছে। বিএনপির অভিজ্ঞতা আছেই বলে এ দলেল পক্ষে সম্ভাব সঠিক ভাবে শক্তভাবে আইিন শৃঙ্কলা নিয়ন্ত্র করা ও শক্তভাবে মানুষের নিরাপত্তা প্রদান করা।
রংপুর মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব অ্যাড. মাহফুজ উন নবী ডনের সঞ্চালনায় জনসভায় বক্তব্য রাখেন, বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কেন্দ্রীয় নেতা এ জেডএম জাহিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবীব দুলুসহ অন্যরা।

আরও পড়ুন
দুবাইয়ের গালফুডে বাংলাদেশ পেল ২৭ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি ও ক্রয়াদেশ
মুরাদনগর কায়কোবাদের নির্বাচনী গণসংযোগ
দূর্ণীতিমুক্ত ইনসাফ, ন্যায় ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে চাই ঃ মাওলানা মামুনুল হক