Saturday, January 31st, 2026, 4:59 pm

বিমানভাড়া নিয়ন্ত্রণে সরকারি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সতর্ক করল আয়াটা

 

বেসামরিক বিমান খাতে সরকারের ভাড়া নিয়ন্ত্রণ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে উদ্বেগ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (IATA)। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ ভাড়ার ক্ষেত্রে উল্টো প্রভাব ফেলতে পারে, যা যাত্রীদের খরচ বাড়াতে পারে, দেশের আকাশপথের সংযোগকে দুর্বল করতে পারে এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

চলতি মাসের ১৪ জানুয়ারি আয়াটা এ বিষয়টি নিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরিন জাহানের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায়। মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চিঠিতে আয়াটা উল্লেখ করেছে, সরকারের প্রস্তাবিত ‘বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৬’-এর ৪৩এ ধারায় এয়ারলাইনগুলোর ভাড়া সংক্রান্ত তথ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে। আয়াটার উদ্বেগ, এটি যদি ভাড়া নির্ধারণ বা সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত হয়, তাহলে তা পরোক্ষভাবে মূল্যনিয়ন্ত্রণের দরজা খুলে দিতে পারে। তারা জানতে চেয়েছে, এই তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা কি কেবল পর্যবেক্ষণের জন্য নাকি ভাড়া নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যেও ব্যবহৃত হবে।

সংস্থাটি আরও বলেছে, যদি এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ভাড়ায় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়, তাহলে তা মুক্ত বাজার অর্থনীতির পরিপন্থী হবে এবং এয়ারলাইন শিল্পের স্বাভাবিক বাজার গতিশীলতা ব্যাহত করবে। এতে এয়ারলাইনগুলোর বাণিজ্যিক টেকসইতা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ও এয়ার অ্যাস্ট্রাসহ বিশ্বের প্রায় ৩৬০টি এয়ারলাইনের প্রতিনিধিত্বকারী আয়াটা জোর দিয়ে বলেছে, উচ্চ স্থায়ী ব্যয়, জ্বালানির অস্থির মূল্য এবং যাত্রী চাহিদার ওঠানামা সামলাতে এয়ারলাইনগুলোর ভাড়া নির্ধারণে স্বাধীনতা অপরিহার্য।

চিঠিতে আয়াটা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, সত্তরের দশকের শেষ দিকে বৈশ্বিক এভিয়েশন খাতে ডিরেগুলেশন (নিয়ন্ত্রণমুক্ত ব্যবস্থা) চালুর পর থেকে প্রকৃত অর্থমূল্যে গড় বিমানভাড়া অর্ধেকেরও বেশি কমেছে। বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণই দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করেছে।

আয়াটা সতর্ক করেছে, সরকার যদি ভাড়ার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে, তাহলে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে। এতে এয়ারলাইনগুলোর বিনিয়োগে আগ্রহ কমবে, আসনসংখ্যা হ্রাস পাবে এবং আয়ের ঘাটতি পূরণ করতে ন্যূনতম ভাড়া আরও বেড়ে যেতে পারে। এছাড়া কম যাত্রীসংখ্যার বা প্রান্তিক রুটগুলো অলাভজনক হয়ে ওঠায় দ্বিতীয় সারির শহরগুলোর সঙ্গে বিমান যোগাযোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। আয়ের চাপ বাড়লে সেবার মানও নেমে যেতে পারে।

ভাড়া নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি, বিমান খাতে বিভিন্ন চার্জ ও লেভি নির্ধারণের জন্য ‘অ্যাডভাইজরি বোর্ড’ গঠনের প্রস্তাব নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে আয়াটা। সংস্থার মতে, এসব চার্জ অবশ্যই আইকাও-এর (ICAO) নীতিমালা অনুযায়ী ব্যয়ভিত্তিক, সমন্বিত ও শিল্পখাতের অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে।

চিঠির শেষ অংশে আয়াটা সরকারকে অনুরোধ করেছে, প্রস্তাবিত বিধানগুলো পুনর্বিবেচনা করে বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক বিমান পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে, এয়ারলাইনগুলোর বাণিজ্যিক স্বাধীনতা বজায় রাখা অপরিহার্য।

এনএনবাংলা/পিএইচ