Saturday, January 31st, 2026, 6:22 pm

বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে মার্কিন কংগ্রেসম্যানদের চিঠি

 

দুইজন মার্কিন সিনিয়র কংগ্রেসম্যান জো উইলসন ও নাইল পাও আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন হওয়া নিশ্চিত করতে মার্কিন ককাসের ডেপুটি প্রধান মার্ক রুবিওকে চিঠি দিয়েছেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সক্রিয় ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন।

গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) প্রেরিত চিঠিতে তারা উল্লেখ করেছেন, এই নির্বাচন বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা বলেন, ফেব্রুয়ারির ভোটে দেশের ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমে নিজেদের মত প্রকাশ এবং দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। চিঠিতে আরও বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের নেয়া নির্বাচনী সংস্কারের ধারাবাহিকতায় এই নির্বাচন একটি ইতিবাচক অগ্রগতির সুযোগ তৈরি করেছে।

কংগ্রেস সদস্যরা পররাষ্ট্র দপ্তরকে অনুরোধ করেছেন, তারা অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করুন। চিঠিতে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা বিশেষভাবে জানিয়েছেন, ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের পর এটি দেশের প্রথম ভোট।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের হিসাব অনুযায়ী আন্দোলনের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে এক হাজার চারশর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ২০১৮ ও ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু বলে বিবেচনা করেনি।

বর্তমান পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য নাজুক ও অস্থির হওয়ায় কংগ্রেস সদস্যরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এই প্রেক্ষাপট লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের এক নেতার হত্যাকাণ্ড এবং এক শ্রমিককে জনতার হাতে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, আসন্ন নির্বাচন সহিংসতা ও প্রতিশোধের চক্র থেকে বেরিয়ে আসার একটি বড় সুযোগ। আইনের শাসন ও মৌলিক মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সরকার গঠনের পথে এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনে সহায়ক হবে।

চিঠিতে কংগ্রেস সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে অনুরোধ করেছেন, তারা এই বিষয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে তা দপ্তরগুলোকে অবহিত রাখুন। পাশাপাশি ১২ ফেব্রুয়ারির আগে একটি ব্রিফিং প্রদানেরও অনুরোধ করা হয়েছে।

এনএনবাংলা/পিএইচ