Sunday, February 1st, 2026, 7:50 pm

কালীগঞ্জে অপহরণ ও মুক্তিপণের ঘটনায় ১৭ মামলার আসামীসহ গ্রেফতার-৬

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ
অপহরণ ও মুক্তিপণের ঘটনায় কালীগঞ্জে ৬জনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। ভিকটিম মোঃ হক সাব (২৪) নামে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবী করে তারা। ভিকটিম উপজেলার মূলগাও এলাকায় অবস্থিত বেসরকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রাণ-আরএফএল কোম্পানীতে চাকুরী করে।
গত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারী) ভিকটিম প্রতিদিনের ন্যায় নিজ কর্মস্থল হতে ভাড়া বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হলে আনুমানিক রাত আট ঘটিকায় পৌরসভার মূলগাঁও এলাকার প্রাণ-আরএফএল এর ৩নং গেইটের সামনে পৌছা মাত্র মোঃ হক সাবকে অপহরণ করে মূলগাঁও এলাকার চৌকিদারবাড়ীর পিছনে কাঠ বাগানে নিয়ে যায়। এসময় প্রাণে বাচঁতে হলে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবী করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। ভয়ে ভিকটিম তার সাথে থাকা ৪ হাজার টাকা নিয়ে নেয় এবং আরোও ১০ হাজার আনতে বলে। প্রাণ বাচাতে ভিকটিম মোঃ হক আসামীদের কথামতো তার স্ত্রী মোসাঃ রিতাকে মোবাইলে ফোন করে অপহরণের বিষয়টি জানান এবং ১০ হাজার টাকা দ্রæত বিকাশে পাঠানোর জন্য বলেন।
ভিকটিমের স্ত্রী তার স্বামীর অপহরণের বিষয়ে থানায় অভিযোগ করলে কালীগঞ্জ অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাকির হোসেনের নেতৃত্বে ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আশরাফুল ইসলাম, এসআই (নিঃ) মোঃ মাসুদ রানা শামীম, এসআই (নিঃ) মাকসুদুল কবির নকীব, এসআই উবায়দুল, এএসআই রফিকুল ইসলাম, এএসআই শফিকুল ইসলামসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালায়। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে গত শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২ ঘটিকার সময় উপজেলার পৌরসভার দেওপাড়া এলাকার সেভেন রিংস সিমেন্ট কোম্পানীর ৫নং গেইট সংলগ্ন সড়ক হতে আসামী মূলগাও এলাকার মিঠু পাঠানের পূত্র জাহিদ হাসান (তামিম) (১৯) ও হরমুজের পূত্র সাগর (২৫) কে গ্রেফতার করে। তাদের নিকট হতে ভিকটিম মোঃ হক সাব কে উদ্ধার করা হয়। আটক দুজনের জবানবন্দী অনুযায়ী অন্য আসামীদের মূলগাও এলাকার লোকমান পাঠানের পূত্র মিঠু পাঠান (৪০), ঘোনাপাড়া এলাকার মনজুর মিয়ার পূত্র কনক মিয়া (২১), নাগরী ইউনিয়নের পানজোড়া এলাকার আনিস উদ্দিনের পূত্র সানি মিয়া (২২) এবং মোঃ টুকু মিয়ার পূত্র জাহিদুল (২৬) কে গ্রেফতার করা হয়।
অপহরণের শিকার মো. হক সাব নোয়াখালী সদর থানার ধর্মপুরের হাজিরহাট এলাকার বাসিন্দা। তার পিতার নাম খান সাব। সে মূলগাঁও এলাকার চৌকিদারবাড়ীতে ভাড়া থাকেন।
মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই মোঃ মাসুদ রানা শামীম জানান, এঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামীদেরকে রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত মিঠু পাঠানের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, দস্যূতা, চুরি, অপহরণ, মাদকসহ ১৭ টি মামলা রয়েছে। আসামী কনক মিয়ার বিরুদ্ধে ডাকাতি, চুরি ও অপহরণ মামলা রয়েছে। অন্য আসামীদের ইয়াবাসহ গ্রেফতার করলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৩ মাসের  সাজা প্রদান করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।