Monday, February 2nd, 2026, 4:50 pm

তফসিল ঘোষণার পর রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৫ জন নিহত: টিআইবি

ছবি: বিবিসি বাংলা

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরের ৩৬ দিনে সারাদেশে অন্তত ১৫ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

সোমবার প্রকাশিত সংস্থাটির গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে মোট ৪০১টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ১০২ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে নিখোঁজ হয়েছে ১ হাজার ৩৩৩টি আগ্নেয়াস্ত্র। খবর বিবিসি বাংলা।

অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় বাড়ছে সহিংসতার ঝুঁকি

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, থানা থেকে লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র এখনো উদ্ধার না হওয়া এবং নতুন করে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ায় নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতার ঝুঁকি আরও বাড়ছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকার যদি মব সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়, তাহলে এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে।

নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় সহিংসতা ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ

‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান নির্বাচনি প্রক্রিয়ায়—

  • রাজনৈতিক সহিংসতা
  • নেতাকর্মীদের হেনস্থা
  • সম্ভাব্য প্রার্থীদের ওপর হামলা
  • সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা

এসব ঘাটতি স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, এই সময়ে সংখ্যালঘুদের ওপর ৫০টির বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে।

বিচার প্রক্রিয়া ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ

জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে টিআইবি। প্রতিবেদনে বলা হয়—

  • গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে পুরনো দমনমূলক ধারা বহাল
  • অযৌক্তিক মামলা দায়ের
  • বিনা বিচারে আটক
  • জামিনযোগ্য মামলায় দীর্ঘদিন জামিন না দেওয়া
  • সরকারি প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ

এমনকি সাংবাদিক ও পেশাজীবীদের হত্যার মামলায় নিরপরাধ ব্যক্তিদের আসামি করার ঘটনাও ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

‘মব’ সহিংসতা ও বিচারবহির্ভূত হত্যায় উদ্বেগ

আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বা ‘মব’ সহিংসতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনাও বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, অনেক ক্ষেত্রে মব তৈরি করে বলপূর্বক দাবি আদায়ে সাফল্য পাওয়া যাচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বকে দুর্বল করছে।

সরকারের নিষ্ক্রিয়তায় অতি ক্ষমতায়নের ঝুঁকি

এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কৌশল ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব, এমনকি নিষ্ক্রিয়তা ও তোষণমূলক অবস্থান অতি ক্ষমতায়নের ঝুঁকি তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছে টিআইবি।

প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে—

  • কারা ও সেনাবাহিনীর হেফাজতে বিচারবহির্ভূত হত্যা
  • সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা
  • ঢালাও মামলায় আসামি করা
  • গ্রেপ্তার বাণিজ্যের অভিযোগ

এনএনবাংলা/