Wednesday, February 4th, 2026, 7:39 pm

নারী অধিকার ও সংখ্যালঘু প্রশ্নে আপস হলে জামায়াতের সঙ্গে জোট টিকবে না: নাহিদ ইসলাম

 

নারী অধিকার ও সংখ্যালঘুদের বিষয়ে কোনো ধরনের আপস হলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে গড়ে ওঠা জোট টিকবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি জানান, এসব প্রশ্ন এনসিপির মৌলিক অবস্থান এবং এতে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।

ভারতের প্রভাবশালী সাপ্তাহিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য উইক’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয় গত ১ ফেব্রুয়ারি (রোববার)।

সাক্ষাৎকারে জামায়াতকে চরম ডানপন্থী আদর্শের প্রতিনিধি হিসেবে দেখা হয় এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে—এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে নাহিদ ইসলাম বলেন, জামায়াতের সঙ্গে গঠিত জোট এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

তিনি বলেন, নির্বাচনী সহযোগিতা ও নির্বাচন-পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা চলছে এবং প্রয়োজন হলে এসব বিষয় নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিফলিত হবে। বর্তমানে এনসিপি ও জামায়াতের পৃথক ইশতেহার রয়েছে।

নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, জামায়াত আগের অবস্থান থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে সরে এসেছে এবং জানিয়েছে—তারা পুরোনো মূল আদর্শের ভিত্তিতে সরকার গঠন করবে না। দলটি এখন অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি এবং এমনকি একটি জাতীয় সরকার গঠনের কথাও বলছে।

তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “নারী অধিকার ও সংখ্যালঘুদের প্রশ্নে যদি আমাদের মূল অবস্থানের সঙ্গে আপস করা হয়, তাহলে এই জোট টিকবে না।”

ধর্মতান্ত্রিক রাষ্ট্র নয়, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, জামায়াত জানিয়েছে তারা উদার নীতির মধ্যেই থাকবে। জোট সরকার গঠিত হলেও রাষ্ট্রকে ধর্মতান্ত্রিক কাঠামোর দিকে নেওয়া হবে না। বরং একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠন এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার রয়েছে।

নারী ও সংখ্যালঘুদের সমস্যা সমাধান এনসিপির মৌলিক প্রতিশ্রুতি এবং দলটির অন্তর্ভুক্তিমূলক আদর্শের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

৩০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে এনসিপি

নাহিদ ইসলাম জানান, এনসিপি জোটের অংশ হিসেবে ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। কতটি আসনে জয় পাবে, তা এখনই বলা কঠিন। কারণ এটি একটি নতুন দল এবং পূর্ববর্তী কোনো নির্বাচনী অভিজ্ঞতা নেই।

তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এনসিপি ও জোট ভালো ফল করবে এবং নির্বাচন হবে প্রতিযোগিতামূলক।

নির্বাচনী জোট, তবে মৌলিক ঐকমত্য রয়েছে

জোটটি আদর্শিক নাকি কেবল নির্বাচনী—এমন প্রশ্নে নাহিদ ইসলাম বলেন, এটি মূলত একটি নির্বাচনী জোট, যেখানে আসনভিত্তিক সমন্বয় রয়েছে। তবে কিছু মৌলিক বিষয়ে ঐকমত্য আছে।

এর মধ্যে অন্যতম হলো জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সংস্কার। এ লক্ষ্যে একটি ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে গণভোট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এনসিপি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জোট সরকার গঠন করলে যৌথভাবে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হবে। সংস্কারের পাশাপাশি দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষাও তাদের প্রধান এজেন্ডা।

তিনি বিশেষভাবে প্রতিবেশী দেশগুলোর আধিপত্যের বিরোধিতা করে একটি মর্যাদাপূর্ণ ও স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতির ওপর জোর দেন।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ও শেখ হাসিনা প্রসঙ্গ

ভারতের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপি ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও কার্যকর সম্পর্ক চায়। তবে ভারতের বাংলাদেশ নীতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। সীমান্ত হত্যা, পানি বণ্টন বিরোধ এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলনের অন্যতম নেতা নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হবে।

তিনি বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনা এবং যাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে রায় দেওয়া হয়েছে, তাদের ফেরত দেওয়া হলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নত হতে পারে। অন্যথায় সম্পর্ক জটিল হয়ে উঠবে।

দলত্যাগ ও অভ্যন্তরীণ মতভেদ

জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়ে নাহিদ ইসলাম জানান, দলের ভেতরে এই সিদ্ধান্তের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন রয়েছে। তবে নীতিগত কারণে এই সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে ১০ থেকে ১২ জন নেতা দল ত্যাগ করেছেন।

তিনি বলেন, তাদের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে ফিরে এলে তাদের স্বাগত জানানো হবে।

সবশেষে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই আন্দোলনের নেতাদের জন্য একক দল গঠন করা বাধ্যতামূলক নয়। কেউ চাইলে স্বাধীনভাবেও নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।

এনএনবাংলা/