Wednesday, February 4th, 2026, 9:40 pm

জাহানারার যৌন হয়রানির অভিযোগ: তদন্তে মঞ্জুরুলের বিরুদ্ধে প্রমাণ পেল কমিটি

 

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের পেসার জাহানারা আলমের করা যৌন হয়রানির চারটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে দুটির ক্ষেত্রে প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে স্বাধীন তদন্ত কমিটি—এমনটাই জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, নারী দলের সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার মো. মঞ্জুরুল ইসলামের অনুপযুক্ত আচরণের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে বাকি দুটি অভিযোগ উপলব্ধ প্রমাণের ভিত্তিতে প্রমাণিত হয়নি।

বিসিবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “কমিটি জাহানারা আলমের করা চারটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পরীক্ষা করেছে। এর মধ্যে দুটি অভিযোগ উপলব্ধ প্রমাণের ভিত্তিতে প্রমাণিত হয়নি। বাকি দুটি অভিযোগের ক্ষেত্রে কমিটি বাংলাদেশ নারী দলের তৎকালীন নির্বাচক ও ম্যানেজার মো. মঞ্জুরুল ইসলামের অনুপযুক্ত আচরণের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে।”

বিসিবি জানায়, মঞ্জুরুল ইসলামের সঙ্গে বোর্ডের চুক্তিভিত্তিক মেয়াদ শেষ হয় ২০২৫ সালের ৩০ জুন।

তদন্ত কমিটি তাদের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছে, “পেশাদার মানের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ আচরণ লক্ষ্য করা গেছে এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রযোজ্য নির্দেশিকা অনুসারে কিছু পদক্ষেপ অসদাচরণ ও হয়রানির সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে।”

বিসিবি জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বোর্ডের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “বোর্ড হয়রানি ও অসদাচরণের বিরুদ্ধে জিরো-টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী। সে অনুযায়ী তদন্ত ফলাফল পর্যালোচনা করে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে বিসিবির আইনি বিভাগকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।”

অভিযোগ কমিটি গঠন, নেতৃত্বে রুবাবা দৌলা

একই সঙ্গে হাইকোর্ট বিভাগের ২০০৯ সালের রায় অনুসারে বিসিবির প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে অভিযোগ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে বিসিবির একমাত্র নারী পরিচালক রুবাবা দৌলাকে।

তিন দফায় সময় বাড়ানোর পর গত সোমবার তদন্ত কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনটি বিসিবি সভাপতির হাতে তুলে দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক তারিক উল হাকিম।

২০২২ বিশ্বকাপ চলাকালে কুপ্রস্তাবের অভিযোগ

গত নভেম্বরে ফ্রিল্যান্স ক্রীড়া সাংবাদিক রিয়াসাদ আজিমের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাহানারা অভিযোগ করেন, নিউজিল্যান্ডে ২০২২ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলাকালে মঞ্জুরুল ইসলাম তাকে কুপ্রস্তাব দেন।

এছাড়াও তিনি অভিযোগ করেন—

  • মানসিক নির্যাতন
  • যৌন হেনস্তা
  • প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বাজে আচরণ

জাহানারা একই ধরনের অভিযোগ করেন— নারী ক্রিকেটের সাবেক ইনচার্জ প্রয়াত তৌহিদ মাহমুদ। টিম ম্যানেজমেন্ট ও বিসিবির আরও কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তার অভিযোগ প্রকাশের পর আরও কয়েকজন নারী ক্রিকেটার মুখ খুললে বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে।

পাঁচ সদস্যের শক্তিশালী তদন্ত কমিটি

প্রথমে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও সমালোচনার মুখে সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে পাঁচ করা হয়। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন—

  • বিচারপতি (অব.) তারিক উল হাকিম – আহ্বায়ক
  • রুবাবা দৌলা – বিসিবির নারী পরিচালক
  • ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা
  • অধ্যাপক ড. নাইমা হক (বাংলাদেশ আইন কমিশন)
  • ব্যারিস্টার মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান খান

বিসিবি প্রথমে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা জানালেও— জাহানারা অস্ট্রেলিয়ায় থাকায় সময় চান। পরে ২০ ডিসেম্বর লিখিত অভিযোগ জমা দেন। এরপর তদন্তের সময় বাড়িয়ে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত করা হয়।

বিসিবি তখন জানায়, “ন্যায্য ও উপযুক্ত তদন্তের স্বার্থে আরও ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলা ও তথ্য যাচাই প্রয়োজন।”

এনএনবাংলা/