Thursday, February 5th, 2026, 9:59 pm

কুলাউড়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুল হক খানের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

জেলা প্রতিনিধিমৌলভীবাজার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ কুলাউড়া আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী (কাপ-পিরিচ) ফজলুল হক খান সাহেদ নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। ৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুরে পৌর শহরের আলালপুর আত্তর খান হাফিজিয়া মাদ্রাসায় কুলাউড়ায় কর্মরত  সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ইশতেহার ঘোষণা করেন ফজলুল হক খান সাহেদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আল-ইসলাহ’র  সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ফজলুল হক খান সাহেদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আতিকুর রহমান আখই, পৌর আল-ইসলাহ’র সাবেক সভাপতি কাজী ফখরুল ইসলাম। ফজলুল হক খান সাহেদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, ইতিপূর্বে কুলাউড়াবাসী আমাকে দুইবার উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও একবার চেয়ারম্যান হিসেবে জনগণের সেবার সুযোগ দিয়েছেন। জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে কুলাউড়াবাসীর সমর্থন নিয়ে আগামী পাঁচ বছর কুলাউড়াবাসীর উন্নয়ন ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় জাতীয় সংসদে ভূমিকা রাখার জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি। কুলাউড়ার উন্নয়ন হতে হবে ইনসাফ, সুশাসন ও জবাবদিহিতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। আমি বিশ্বাস করি, ন্যায় ও বৈষম্যমুক্ত উন্নয়ন ছাড়া মানুষের আস্থা অর্জন এবং টেকসই সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এই নির্বাচনী ইশতেহার নিছক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নয়; এটি কুলাউড়ার প্রতিটি মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার। জনগণের অংশগ্রহণ ও নিয়মিত জবাবদিহিতার মাধ্যমে একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ কুলাউড়া গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য।

অবকাঠামো  যোগাযোগ ব্যবস্থা: পিছিয়ে পড়া কুলাউড়া শহরের যানজট নিরসনে শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং দূরপাল্লার গাড়িসমূহের জন্য শহরের বাইরে দিয়ে বাইপাস সড়ক নির্মাণে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করবো। চা বাগান, পাহাড় ও হাকালুকি হাওর কেন্দ্রিক পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে পর্যটন খাতে শক্তিশালী অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কুলাউড়া উপজেলা শহরের সাথে প্রত্যন্ত অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং গ্রামীণ অবহেলিত রাস্তা পাকা করণ করা হবে।  কুলাউড়া রেলস্টেশন আধুনিকায়ন, প্রতিটি রেলে কুলাউড়ার জন্য আসন সংখ্যা বৃদ্ধি ও স্থানীয় লোকবল নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
আইনশৃঙ্খলা  প্রশাসন: আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের তৎপরতা বৃদ্ধির জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার পাশাপাশি সকল নাগরিকের সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করে ইনসাফ এবং ন্যায়ের কুলাউড়া প্রতিষ্ঠা করবো। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে তথা কুলাউড়ার যুবসমাজকে মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত রাখতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।
স্বাস্থ্যসেবা : কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আধুনিকায়ন ও ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণসহ ডাক্তার, কর্মচারী সংকটের বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে। কৃষি ও পরিবেশ: কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষি জমিসমূহকে ব্যাপকভাবে বিএডিসির আধুনিক সেচ প্রকল্পের আওতায় এনে বোরো ধান এবং রবিশস্যের আবাদ বৃদ্ধির জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করবো। সকল সুযোগ-সুবিধা যেন প্রকৃত কৃষকরা পায় সেটি নিশ্চিত করা হবে। হাওরের ফসল উত্তোলনের সুবিধার্থে রাস্তা উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ। মনু ও ফানাই নদীসহ গুরুত্বপূর্ণ নদীর নাব্যতা বৃদ্ধিতে নদী খনন ও নদীভাঙন রোধে ব্লক বাঁধ নির্মাণ করা হবে।
প্রবাসী কল্যাণশ্রম  কর্মসংস্থান : তরুণদের যথাযথ কর্মসংস্থান নিশ্চিতে উপজেলার সকল গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন। প্রবাসে ইন্তেকালকারী রেমিটেন্স যোদ্ধার পরিবারকে সংসদ সদস্যের বিশেষ তহবিল থেকে সহায়তা, প্রবাসীদের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা নিশ্চিতকরণ এবং নানা বঞ্চনার বিরুদ্ধে জাতীয় সংসদে প্রবাসীদের কণ্ঠস্বর হিসেবে কথা বলা।
শিক্ষা, ক্রীড়া ও দক্ষতা উন্নয়ন: কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার প্রসারে উপজেলায় কারিগরি ইনস্টিটিউট/কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। স্টেডিয়াম  নির্মাণসহ সকল খেলার মাঠ উন্নয়নের আওতায়  আসবে। কুলাউড়ার তরুণ সমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে বিভিন্ন দেশের চাহিদা অনুসারে আইসিটিসহ বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ধর্মীয়  সামাজিক উন্নয়ন: এতিমখানা ও কওমি মাদরাসার অবকাঠামো উন্নয়ন ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দক্ষ জনসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ। খাসিয়া, মনিপুরী সহ চা-বাগানের বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন:  দুর্গম অঞ্চলে বসবাসরত খাসিয়া, মনিপুরী জনগোষ্ঠী এবং চা বাগানে বসবাসরত অবহেলিত জনগোষ্ঠীর যোগাযোগ, চিকিৎসা, শিক্ষা ব্যবস্থায় উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তাদের সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হবে।
জনগণের ক্ষমতায়ন এবং সংসদ সদস্যের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ:  সংসদ সদস্য হিসেবে জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতি তিনমাস অন্তর অন্তর ‘এমপি-জনতা সংলাপ’  শিরোনামে সংলাপের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এতে জনগণ তাদের দাবি দাওয়া জানাতে এবং বিভিন্ন সরকারি বরাদ্দের বাস্তবায়ন সম্পর্কে জানতে পারবেন।