Saturday, February 7th, 2026, 3:56 pm

জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী বিএনপি, জামায়াতের সঙ্গে করবে না ঐক্য সরকার: রয়টার্সকে তারেক রহমান

 

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো ধরনের ঐক্য সরকার গঠনের সম্ভাবনা নেই। একই সঙ্গে তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির এককভাবে সরকার গঠনের ব্যাপারে দৃঢ় আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দলীয় কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান এ অবস্থান তুলে ধরেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপির নেতৃত্বদানকারী তারেক রহমান প্রায় দুই দশক লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর গত ডিসেম্বর মাসে দেশে ফিরে আসেন। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরই তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। শেখ হাসিনা ছিলেন তারেক রহমানের মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছে ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী। একসময় নিষিদ্ধ থাকলেও দলটি বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই দুই দল একসঙ্গে জোট সরকার পরিচালনা করেছিল।

সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামী দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে আবারও ঐক্য সরকার গঠনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে তারেক রহমান এ ধরনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।

সাক্ষাৎকারে ঐক্য সরকার গঠনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে কীভাবে সরকার গঠন করব? আর যদি তা-ই করি, তাহলে বিরোধী দল কে হবে?”

তিনি আরও বলেন, “জামায়াত কতটি আসন পাবে, তা আমি জানি না। তবে তারা যদি বিরোধী দলে থাকে, তাহলে আশা করি তাদের কাছ থেকে একটি ভালো বিরোধী দলের ভূমিকা দেখতে পাব।”

বিএনপির শীর্ষ নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন, ৩০০ আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে জয়লাভ করবে দলটি। এবারের নির্বাচনে বিএনপি ২৯২টি আসনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে এবং বাকি আসনগুলোতে তাদের মিত্র জোটের প্রার্থীরা লড়ছেন।

যদিও ঠিক কতটি আসনে বিএনপি জয় পাবে— সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা বলতে চাননি তারেক রহমান। তবে তিনি বলেছেন, “আমরা আত্মবিশ্বাসী যে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসন আমরা পাব।”

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন জনমত জরিপে বিএনপির জয়ের পূর্বাভাস পাওয়া গেলেও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট থেকে শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে দলটিকে। ওই জোটে রয়েছে তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা হাসিনাবিরোধী আন্দোলন থেকে উঠে আসা জেন-জিদের দল এনসিপি।

গত বছর জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। ভারতের আশ্রয়ে থাকা হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বর্তমানে তীব্র টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে এ পরিস্থিতি চীনের জন্য বাংলাদেশে প্রভাব ও বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে।

নির্বাচনে জয়ী হলে ভারত থেকে সরে গিয়ে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের এমন অংশীদার প্রয়োজন, যারা দেশের ১৭ কোটির বেশি মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

তিনি বলেন, “আমাদের তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে হবে, যাতে মানুষ ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারে। বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যে দেশ আমাদের জন্য উপযোগী প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গেই আমরা বন্ধুত্ব রাখব— নির্দিষ্ট কোনো দেশের সঙ্গে নয়।”

শেখ হাসিনার সন্তানরা বিদেশ থেকে ফিরে রাজনীতিতে অংশ নিতে পারবেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, “যদি জনগণ তাদের গ্রহণ করে এবং স্বাগত জানায়, তাহলে যে কারোরই রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে।”

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছে এবং তাদের প্রত্যাবাসনই একমাত্র সমাধান। তবে তা অবশ্যই নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হওয়ার পরই হতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, “আমরাও চাই রোহিঙ্গারা তাদের নিজ দেশে ফিরে যাক। কিন্তু সেখানে পরিস্থিতি নিরাপদ হতে হবে। যতক্ষণ না নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, ততক্ষণ তারা বাংলাদেশে থাকতে পারবে।”

এনএনবাংলা/পিএইচ