Saturday, February 7th, 2026, 9:21 pm

নিজ নিজ আসনে এগিয়ে তারেক রহমান ও ডা. শফিক

 

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে কোন দল বা কোন প্রার্থী এগিয়ে— তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা ও হিসাব–নিকাশ। বিভিন্ন সংস্থার জরিপেও উঠে আসছে ভিন্ন ভিন্ন চিত্র। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকার দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসন নিয়ে প্রকাশিত এক জরিপে এগিয়ে রাখা হয়েছে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বিডিবিএল ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই জরিপের ফলাফল প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি সংস্থা ‘সোচ্চার-টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশ’।

জরিপ অনুযায়ী, ঢাকা-১৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই আসনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এস এম খালিদুজ্জামান। জরিপে দেখা গেছে, ৩৫ শতাংশ ভোটার তারেক রহমানকে সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে ৩২ শতাংশ ভোটারের সমর্থন পেয়েছেন ডা. খালিদুজ্জামান।

তবে এখনো উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোটার সিদ্ধান্তহীন থাকায় শেষ মুহূর্তে ফলাফল পরিবর্তনের সম্ভাবনাও দেখছেন বিশ্লেষকরা। জরিপে অংশ নেওয়া ৫১৫ জন ভোটারের মধ্যে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ অন্যান্য প্রার্থীদের সমর্থনের কথা বলেছেন এবং ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার ভোট না দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এছাড়া ১০ শতাংশ ভোটার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি এবং ১৫ শতাংশ ভোটার নিজেদের পছন্দ প্রকাশ করতে রাজি হননি। অর্থাৎ প্রায় ২৫ শতাংশ ভোটারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে “কে জিততে পারেন?”— এমন প্রশ্নের উত্তরে ৪৬ দশমিক ৪ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, এই আসনে তারেক রহমানই বিজয়ী হবেন। বিপরীতে ২৭ দশমিক ৪ শতাংশ মনে করেন জয়ী হতে পারেন ডা. খালিদুজ্জামান।

অন্যদিকে ঢাকা-১৫ আসনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠেছে। এখানে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান লড়ছেন বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের বিরুদ্ধে। ভোটারদের ধারণা অনুযায়ী, এই দুজনের মধ্যেই মূল লড়াই হবে।

‘সোচ্চার-টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশ’-এর জরিপ বলছে, ঢাকা-১৫ আসনে ৪৯ দশমিক ২ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন পেতে পারেন ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট। এছাড়া ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীন অবস্থায় রয়েছেন এবং ৪ দশমিক ১ শতাংশ ভোটার নিজেদের পছন্দ প্রকাশ করতে চাননি। বাকি ভোটাররা অন্যান্য প্রার্থীদের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন।

ঢাকা-১৫ আসনটি রাজধানীর মিরপুর ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকার ডিএনসিসি ওয়ার্ড ৪, ১৩, ১৪ ও ১৬ নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫১ হাজার ৭১৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬১৬ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৭২ হাজার ৯৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন চারজন। জরিপের জন্য এই আসনে ৫১৪ জন ভোটারের মতামত নেওয়া হয়।

এর আগেও বিভিন্ন সংস্থার দলভিত্তিক জরিপ প্রকাশিত হয়েছে, যেগুলোর অধিকাংশেই বিএনপিকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও ধারণা, সরকার গঠনের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে বৃহত্তম এই দলটি।

তবে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের দাবি, ভোটারদের উল্লেখযোগ্য অংশের সমর্থন তাদের পক্ষেই রয়েছে। শেষ পর্যন্ত কোন দল সরকার গঠন করবে এবং কারা বিরোধী দলে থাকবে— তা নির্ধারিত হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের ফলাফলের পরই। সেই পর্যন্ত অপেক্ষাই একমাত্র ভরসা।

এনএনবাংলা/পিএইচ