ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আজ রোববার থেকে মাঠে নামছে সেনাবাহিনীসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। একই সঙ্গে নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের জন্য ১ হাজার ৫১ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। তারা ভোটগ্রহণের পরও আরও দুই দিন দায়িত্ব পালন করবেন।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, সেনাবাহিনী আগে থেকেই প্রস্তুত অবস্থায় ছিল। তবে আজ থেকে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে থাকবে এবং ভোটের আগে-পরে মোট সাত দিন দায়িত্ব পালন করবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ভালো এবং নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য পরিবেশ অনুকূল রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি এবং কোস্টগার্ড মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন।
জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে প্রায় ৯ লাখ ৭০ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৩ জন, সেনাবাহিনীর ১ লাখ ৩ হাজার, নৌবাহিনীর ৫ হাজার, বিমান বাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন, কোস্টগার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫ জন, পুলিশের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন, র্যাবের ৯ হাজার ৩৪৯ জন এবং চৌকিদার-দফাদারের ৪৫ হাজার ৮২০ জন সদস্য অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
পরিপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, র্যাব, পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং আনসার ব্যাটালিয়ন মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। বিজিবি, র্যাব, এপিবিএন এবং আনসার ব্যাটালিয়ন জেলা, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবে। উপকূলীয় এলাকায় বিশেষভাবে কোস্টগার্ড মোতায়েন থাকবে।
সকল বাহিনী রিটার্নিং অফিসারের কাছে রিপোর্ট করবে এবং তার নির্দেশনা ও পরামর্শ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে বলেও পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোতায়েন কার্যক্রম শুরু হয়েছে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এবং তা চলবে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত—মোট সাত দিন।
মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৫-১৬ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭-১৮ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। মেট্রোপলিটন এলাকায় সাধারণ কেন্দ্রে ১৬ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ জন সদস্য থাকবেন। দুর্গম ও বিশেষ এলাকায় সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৬-১৭ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭-১৮ জন সদস্য মোতায়েন থাকবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এনএনবাংলা/পিএইচ

আরও পড়ুন
ভোট উপলক্ষে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন সীমিত রাখার নির্দেশ
নির্বাচনে রিকুইজিশন করা গাড়ির দৈনিক খোরাকি ৪,৯০০ টাকা
হাদি হত্যার সুষ্ঠু তদন্তে জাতিসংঘের সহযোগিতা চাইল সরকার