Monday, February 9th, 2026, 8:35 pm

মার্কিন তুলা ব্যবহার করা বাংলাদেশি তৈরি পোশাককে যুক্তরাষ্ট্র দেবে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার

 

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। চুক্তিটি আজ রাত ৯টায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি বাংলাদেশের রপ্তানি অর্থনীতি ও বৈশ্বিক বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে।

চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা ব্যবহার করে তৈরি বাংলাদেশি তৈরি পোশাক কোনো ধরনের পারস্পরিক শুল্ক ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ করতে পারবে। এর ফলে দীর্ঘদিনের একটি বড় বাণিজ্যিক বাধা কার্যত তুলে নেওয়া হলো।

এতদিন নির্দিষ্ট মাত্রার মার্কিন উপকরণ ব্যবহার না করলে বাংলাদেশের গার্মেন্ট রপ্তানিতে বিদ্যমান শুল্ক ও পাল্টা শুল্ক মিলিয়ে কার্যকর শুল্কহার প্রায় ৩৬.৫ শতাংশে পৌঁছাতো। নতুন চুক্তিটি সেই বাস্তবতায় একটি বড় পরিবর্তন নিয়ে এসেছে।

বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত হলো তৈরি পোশাক শিল্প, যা মোট রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ জুড়ে আছে।

সর্বশেষ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী—যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮.৬৯ বিলিয়ন ডলার। যার মধ্যে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার ওভেন পোশাক (বোনা কাপড়। যেমন: শার্ট, প্যান্ট) এবং ২.৬ বিলিয়ন ডলার নিটওয়্যার (নিট করা কাপড়। যেমন: টি-শার্ট, সোয়েটার)।

বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ বর্তমানে দ্বিতীয় বৃহত্তম গার্মেন্ট রপ্তানিকারক দেশ। তৈরি পোশাক শিল্প দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎস এবং লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের ভিত্তি।

‘গেম চেঞ্জার’ হতে পারে এই চুক্তি

শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই বাণিজ্য চুক্তি বাংলাদেশের গার্মেন্ট খাতের জন্য একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হতে পারে। এতে—

  • রপ্তানিকারকদের উৎপাদন ব্যয় কমবে
  • আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়বে
  • মার্কিন ক্রেতাদের কাছ থেকে অর্ডার বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে
  • তুলাভিত্তিক পোশাকেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব

বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানির প্রায় তিন-চতুর্থাংশই তুলাভিত্তিক। ফলে মার্কিন তুলা ব্যবহার করে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার ফলে কাঁচামাল সংগ্রহ, উৎপাদন কৌশল এবং সাপ্লাই চেইনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক মাইলফলক

দীর্ঘদিনের আলোচনা ও শিল্পখাতের প্রচেষ্টার পর এই চুক্তির অনুমোদনকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত এবং বৈশ্বিক পোশাক উৎপাদনে দেশের ভবিষ্যৎ ভূমিকার ওপর তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলবে।

এনএনবাংলা/