February 10, 2026
Tuesday, February 10th, 2026, 3:02 pm

নির্বাচনে ফলাফল যা-ই হোক মেনে নেবে বিএনপি: মির্জা ফখরুল

 

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে যে ফলাফলই আসুক না কেন, বিএনপি তা মেনে নেবে এবং স্বাগত জানাবে। অতীতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি মাত্র ৩০টি আসন পেলেও সংসদে যোগ দিয়েছিল এবং জনগণের রায় মেনে নিয়েছিল।

মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়িতে তাঁর পৈতৃক বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ অনুকূল রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো নিজস্ব স্বকীয়তা বজায় রেখে সতর্কতার সঙ্গে নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক ঠাকুরগাঁও সফরকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এই সফর ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে এবং বিএনপির রাজনীতিকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে।

বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, গত ১৫–১৬ বছর ধরে বিএনপি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য লড়াই করে আসছে। আসন্ন নির্বাচনকে তিনি গণতান্ত্রিক উত্তরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘গেটওয়ে’ হিসেবে দেখছেন। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে দেশে গণতান্ত্রিক চর্চা পুনরায় শুরু হবে এবং রাষ্ট্র ও সমাজে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নির্বাচনে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ আশঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে কারচুপির অভিজ্ঞতা থাকায় অনেকের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বিএনপি দলগতভাবে তেমন কোনো আশঙ্কা দেখছে না। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনি মনে করেন, নির্বাচন ভালো হবে এবং কারচুপির প্রভাব খুব একটা পড়বে না। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করবেন বলে তিনি আশাবাদী।

জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, নতুন দল হিসেবে তারা বেশ সরব এবং কৌশলীভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছে দলটি। সম্প্রতি রমেশ বাবুর মৃত্যু নিয়ে ফেক নিউজ ছড়ানোর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এসব অপকৌশল শেষ পর্যন্ত কাজে দেয় না। মানুষের ওপর আস্থা রাখা উচিত, কারণ জনগণ সঠিক সিদ্ধান্তই নেবে।

সংখ্যালঘু ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এমন কিছু সমস্যা থাকতে পারে, তবে বিএনপি সবাইকে ভোট দিতে উৎসাহিত করছে। তিনি বলেন, “যাঁকে খুশি তাঁকে ভোট দিন, কিন্তু ভোটকেন্দ্রে যান—এটা আপনার অধিকার।” প্রশাসনও ভোটারদের একইভাবে উৎসাহিত করছে বলে তিনি জানান। তাঁর বিশ্বাস, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও মুসলিম—সব সম্প্রদায়ের মানুষ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন।

নির্বাচন নিয়ে চাপ অনুভব করছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি প্রতিটি নির্বাচনকেই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। প্রতিপক্ষকে কখনো দুর্বল মনে করে না, সব সময় শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ভেবেই নির্বাচনে অংশ নেয়। এবারের নির্বাচন নিয়েও দল আশাবাদী।

নির্বাচনে বোরকা ব্যবহার করে জালিয়াতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলের এজেন্টদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে অনেক সময় বাস্তবে যতটা ঘটে, তার চেয়ে বেশি বিষয়টি মিডিয়ায় প্রচার হয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।

সার্বিকভাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আসন্ন নির্বাচনকে নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং এটিকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

এনএনবাংলা/পিএইচ