February 10, 2026
Tuesday, February 10th, 2026, 4:41 pm

নির্বাচনকালীন অপরাধ দমনে মাঠে নামছে ৬৫৫ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) থেকে মাঠে নামছেন ৬৫৫ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশ অনুযায়ী, এই ম্যাজিস্ট্রেটরা আজ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৫ দিন নির্বাচনী অপরাধ সংক্রান্ত বিচার কার্য পরিচালনা করবেন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণের আগের দুই দিন, ভোটের দিন এবং পরের দুই দিন এই কার্যক্রম চলবে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব (আইন) মোহাম্মদ দিদার হোসাইন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, ম্যাজিস্ট্রেটরা ‘দ্য রিপ্রেজেন্টেশন অফ দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২’-এর অনুচ্ছেদ ৮৯ অনুযায়ী নির্বাচনী অপরাধ সরাসরি আমলে নেওয়ার ক্ষমতা রাখবেন। বিশেষ করে ভোটে বাধা দেওয়া, ভোটকেন্দ্র দখল, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও অন্যান্য তফসিলি অপরাধের ক্ষেত্রে তারা ‘সামারি ট্রায়াল’ পরিচালনা করবেন, যা ‘দ্য কোড অফ ক্রিমিনাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮’ এর ১৯০(১) ধারার অধীনে হবে।

আইন ও বিচার বিভাগ এবং সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শক্রমে জুডিশিয়াল সার্ভিসের কর্মকর্তাদের এই বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যাতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়।

প্রজ্ঞাপনে ম্যাজিস্ট্রেটদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালেই তারা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় যোগদান করবেন এবং তার অনুলিপি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠাবেন। দায়িত্ব পালনের সময় কোনো অপরাধের অভিযোগ দায়ের হলে তা দ্রুত নিষ্পত্তি করে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইসি সচিবালয়ের আইন শাখায় প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

প্রতিটি সংসদীয় আসনে এক বা একাধিক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের সহায়তার জন্য বেঞ্চ সহকারী বা স্টেনোগ্রাফার রাখা যাবে। জেলা প্রশাসকদেরও ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

ম্যাজিস্ট্রেটদের নিরাপত্তা ও চলাচলের জন্য জেলা প্রশাসকরা প্রয়োজন অনুযায়ী জিপ, মাইক্রোবাস বা স্পিডবোটের ব্যবস্থা করবেন। এছাড়া পুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপার ও থানা অফিসারদের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিরাপত্তায় ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ মোতায়েন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সারা দেশের ৩০০টি নির্বাচনী এলাকায় প্রতিটি স্থানে বিচারকদের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। পঞ্চগড়-১ থেকে বান্দরবান পর্যন্ত প্রতিটি আসনে এই সরাসরি নজরদারি নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করতে সহায়ক হবে বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন।

এনএনবাংলা/পিএইচ