February 10, 2026
Tuesday, February 10th, 2026, 5:48 pm

দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তিতে ভারতীয় পোশাক রপ্তানিকারকরা চিন্তিত

ছবিটি এআই দিয়ে করা

 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। চুক্তির আওতায়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা ব্যবহার করে তৈরি নির্দিষ্ট গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল পণ্য কোনো প্রকার পারস্পরিক শুল্ক ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ করতে পারবে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই চুক্তির পর ভারতীয় পোশাক ও তুলা রপ্তানিকারকরা উদ্বেগে পড়েছেন। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে ভারতের তুলা ও সুতা রপ্তানিতে তাৎক্ষণিক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ তুলার বড় অংশ ভারত থেকে আমদানি করলেও নতুন চুক্তির কারণে মার্কিন তুলার দিকে ঝুঁকতে পারে ঢাকা। ফলে ভারতের তুলা শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পোশাক রপ্তানিকারকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র আগে বাংলাদেশের পণ্যে ১৯ শতাংশ এবং ভারতীয় পণ্যে ১৮ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। সে প্রেক্ষাপটে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় বাড়তি সুবিধার আশা করেছিলেন। কিন্তু নতুন চুক্তিতে বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাওয়ায় সেই প্রত্যাশা ধাক্কা খেতে পারে।

চুক্তিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য নতুন একটি ব্যবস্থা চালু করবে। এর আওতায় নির্দিষ্ট কিছু তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্য শুল্ক ছাড়াই মার্কিন বাজারে প্রবেশ করতে পারবে। তবে এই সুবিধার পরিমাণ নির্ভর করবে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে কত পরিমাণ টেক্সটাইল কাঁচামাল—যেমন তুলা বা কৃত্রিম সুতা—আমদানি করছে তার ওপর। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র থেকে যত বেশি কাঁচামাল কেনা হবে, তত বেশি পরিমাণ পণ্য শুল্কমুক্ত রপ্তানির সুযোগ পাবে বাংলাদেশ।

দ্য হিন্দু জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত বাংলাদেশে ১.৪৭ বিলিয়ন ডলারের তুলার সুতা রপ্তানি করেছে, যা তাদের মোট সুতা রপ্তানির সিংহভাগ। গত বছর বাংলাদেশে ১২ থেকে ১৪ লাখ বেল তুলা রপ্তানি করেছে ভারত। বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ যায় যুক্তরাষ্ট্রে। অন্যদিকে ভারতীয় তুলা দিয়ে তৈরি প্রায় ২৬ শতাংশ পণ্য মার্কিন বাজারে প্রবেশ করে।

কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রির সেক্রেটারি জেনারেল চন্দ্রিমা চ্যাটার্জি বলেন, “আমার আশঙ্কা, ভারতের তুলার সুতায় তাৎক্ষণিক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কারণ বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা কিনে নিজস্ব টেক্সটাইল মিলে তা প্রক্রিয়াজাত করতে পারবে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা হয়তো ১০ শতাংশ মার্কিন তুলা ব্যবহার করে ১০০ শতাংশ ব্যবহারের দাবি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে তা যাচাই করবে, সেটিও প্রশ্ন। তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশ অত্যন্ত শক্তিশালী—আমরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারি।”

ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্সের ন্যাশনাল কমিটি অন টেক্সটাইলের চেয়ারম্যান সঞ্জয় কে জৈন বলেন, “এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি নিট ও ওভেন পোশাক আমদানি করবে। বিশেষ করে ১০০ শতাংশ সুতির টি-শার্ট ও মেয়েদের টপস রপ্তানিতে ভারত প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা হারাতে পারে।”

তবে কিছু ভারতীয় ব্যবসায়ী এখনও আশাবাদী। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি, সুতা উৎপাদন এবং পোশাক তৈরি করে রপ্তানি—এই পুরো প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশকে লজিস্টিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে, যা বাস্তবায়নে সময়সাপেক্ষ হতে পারে।

এনএনবাংলা/