February 11, 2026
Wednesday, February 11th, 2026, 2:03 pm

ঠাঁই নেই বাস-ট্রেন-লঞ্চে: বাড়তি ভাড়াতেও থামছে না ভোটের টানে ঘরমুখো মানুষের ঢল

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। আগামীকাল (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে সাতটা থেকে সারাদেশের ভোটাররা তাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচন ঘিরে সারাদেশে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। তবে রাজধানী ঢাকায় দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র—ভোট দিতে গ্রামের পথে ছুটছেন লাখো মানুষ।

বাস-লঞ্চ টার্মিনালে উপচেপড়া ভিড়

বুধবার সকাল থেকেই যাত্রাবাড়ী-সায়েদাবাদ বাস ও লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বাস কাউন্টারগুলোতে দীর্ঘ লাইন, টিকিটের জন্য হুড়োহুড়ি এবং অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

ট্রেনে আসন সংকট, ছাদে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা

কমলাপুর রেলস্টেশনেও একই চিত্র। ট্রেনগুলো যাত্রীতে ঠাসা। অনেকেই আসনবিহীন বা স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটে যাত্রা করছেন। ভেতরে জায়গা না পেয়ে কেউ কেউ ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদেও উঠছেন। আবার যানবাহনের অভাবে অনেকে ট্রাক ও পিকআপে করেও গ্রামের পথে রওনা হয়েছেন।

নিরাপত্তায় কঠোর ব্যবস্থা

স্টেশনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্রিয় রয়েছে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএমবি)। যাত্রীদের ব্যাগ স্ক্যানিং, টিকিট যাচাই ও ডিজিটাল স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে স্টেশনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

উৎসবের আমেজ, প্রথমবার ভোটের উচ্ছ্বাস

ভোটকে কেন্দ্র করে কমলাপুর রেলস্টেশন এখন যেন মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। ব্যাগ হাতে মানুষের ভিড়, হাসি-আনন্দ আর প্রত্যাশার গল্পে মুখর পুরো এলাকা। অনেকের চোখেমুখে দেখা গেছে প্রথমবার ভোট দেওয়ার উচ্ছ্বাস।

বাড়তি ভাড়ায় ক্ষোভ, তবুও ভোটই অগ্রাধিকার

বাসযাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাড়তি ভাড়া নিয়ে কিছুটা ক্ষোভ থাকলেও ভোট দেওয়ার আগ্রহের কাছে তা চাপা পড়ে গেছে। অনেকেই বলছেন, “একদিনের বাড়তি ভাড়া ভবিষ্যতের জন্য একটি ভোটের কাছে তেমন কিছু নয়।”

যাত্রাবাড়ী-সায়েদাবাদ এলাকায় শুধু মানুষের ভিড় নয়, লক্ষ্য করা গেছে প্রাণচাঞ্চল্যও। কেউ পরিবারের সঙ্গে গল্প করছেন, কেউ ফোনে গ্রামের খবর নিচ্ছেন, কেউ আবার সহযাত্রীদের সঙ্গে প্রিয় প্রার্থীর আলোচনা করছেন।

ভাড়া বাড়তি, যানজট আছে, অপেক্ষাও দীর্ঘ—তবুও ভোটের টানে গ্রামমুখী মানুষের এই ঢল থামানো যাচ্ছে না। বহুদিন পর ভোট যেন ফিরে পেয়েছে উৎসবের রঙ, মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং গণতন্ত্রের প্রত্যাশা।

এনএনবাংলা/