February 12, 2026
Thursday, February 12th, 2026, 1:48 pm

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল নির্বাচন

ছবি: শামীম আহমেদ

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট আজ। প্রশিক্ষণ, ব্যালট ছাপানো, লজিস্টিক সহায়তা, পরিবহন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন, প্রযুক্তি ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, গণভোট আয়োজন এবং পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাপনার ব্যয়ের কারণে এবারের নির্বাচন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট মিলিয়ে মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুকূলে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এছাড়া গণভোট, পোস্টাল ব্যালটসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০০ কোটি টাকা।

এর আগে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত তিনটি সংসদ নির্বাচনে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও তা ত্রয়োদশ নির্বাচনের চেয়ে কম ছিল। প্রাক্কলন অনুযায়ী, এবার আসনপ্রতি গড় ব্যয় হবে সাড়ে ১০ কোটি টাকা। তুলনায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনপ্রতি গড় ব্যয় ছিল ৭ কোটি টাকার কিছু বেশি।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট আয়োজন এবং প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট গ্রহণের কারণে ব্যয় বৃদ্ধি স্বাভাবিক।

নির্বাচন কমিশনের বাজেট ও ফাইন্যান্স শাখার এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নির্বাচনী ব্যয় ৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাবে না। সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪০০ থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। সাধারণত আপৎকালীন প্রয়োজন বিবেচনায় বাজেট বেশি ধরা হয়।

তিনি জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়নি। তবে প্রায় ৯ লাখ সরকারি আদেশ (জিও) বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও জেলা পর্যায়ের কার্যালয় থেকে জমা হয়েছে, যেগুলোর পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো সংযুক্ত হয়নি। ফলে চূড়ান্ত ব্যয় আরও বাড়তে পারে।

নির্বাচন কমিশন ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে দুই ধাপে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে ২ হাজার ৮০ কোটি টাকা এবং দ্বিতীয় ধাপে ১ হাজার ৭০ কোটি টাকা। দ্বিতীয় ধাপের বরাদ্দে দৈনিক খোরাকি ভাতা, মেশিন ও সরঞ্জাম ভাড়া, প্রচার ও বিজ্ঞাপন, ক্ষতিপূরণ, আপ্যায়ন, যানবাহন ব্যবহার, যাতায়াত ব্যয়, ভেন্যু ভাড়া, শ্রমিক মজুরি, পরিবহন, জ্বালানি, প্রশিক্ষণ, মুদ্রণ ও বাঁধাই, স্ট্যাম্প ও সিল, সম্মানী, ব্যালট বাক্সসহ বিভিন্ন খাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট পাঠানো ও সংগ্রহে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। প্রবাসীদের প্রতিটি পোস্টাল ব্যালটে ব্যয় হচ্ছে ৭০০ টাকা, আর অভ্যন্তরীণ পোস্টাল ব্যালটে ব্যয় ২৩ টাকা।

এবারের নির্বাচনে মোট নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।

এর আগে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ব্যয় হয়েছিল ২ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচনে বরাদ্দ ছিল প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ব্যয় হয়েছিল প্রায় ২৬৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। ওই নির্বাচনে ১৫৩ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ায় মোট খরচ তুলনামূলক কম ছিল।

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ব্যয় হয়েছিল ১৬৫ কোটি টাকা এবং ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে ব্যয় ছিল ৭২ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

এনএনবাংলা/