ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের রায়ে চমক দেখা গেছে একাধিক আসনে। প্রভাব, পরিচিতি ও দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও পরাজিত হয়েছেন কয়েকজন আলোচিত ও হেভিওয়েট প্রার্থী। বহুদিনের শক্ত ঘাঁটিতেও বদলে গেছে রাজনৈতিক সমীকরণ।
খুলনায় বড় চমক
খুলনা-৫ আসনে মিয়া গোলাম পরওয়ার পরাজিত হয়েছেন। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৬ ভোট পেলেও বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আলি আসগার ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। ব্যবধান ২ হাজার ৬০৮ ভোট।
খুলনা-২ আসনে বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে হারিয়ে জামায়াতের শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল ৯৩ হাজার ৭৮৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। মঞ্জু পান ৮৮ হাজার ১৯৭ ভোট। ব্যবধান ৫ হাজার ৫৯২।
খুলনা-১ আসনে জামায়াতের আলোচিত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী বড় ব্যবধানে হেরে যান। বিএনপির আমির এজাজ খান ১ লাখ ২১ হাজার ৩৫২ ভোট পেয়ে জয়ী হন, আর কৃষ্ণ নন্দী পান ৭০ হাজার ৩৪৬ ভোট। ব্যবধান ৫১ হাজার ৬।
ঢাকায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
ঢাকা-১৩ আসনে মামুনুল হককে হারিয়ে বিএনপির ববি হাজ্জাজ ৮৮ হাজার ৩৮৭ ভোট পেয়ে জয়ী হন। মামুনুল হক পান ৮৬ হাজার ৬৭ ভোট। ব্যবধান ২ হাজার ৩২০।
ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাস ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পান ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট।
ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা ফুটবল প্রতীকে ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট পেলেও জয়ী হন বিএনপির হাবিবুর রশিদ (১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট)।
বরিশালে দুই আসনেই হার ফয়জুল করীমের
বরিশাল-৫ ও ৬ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম পরাজিত হয়েছেন।
বরিশাল-৫ আসনে বিএনপির মজিবর রহমান সরোয়ার ১ লাখ ৩১ হাজার ৪৩১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। ফয়জুল করীম পান ৯৩ হাজার ৫২৮ ভোট।
বরিশাল-৬ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আবুল হোসেন খান ৮১ হাজার ৮৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। ফয়জুল করীম এখানে পান ২৮ হাজার ৮২৩ ভোট।
কক্সবাজার ও পঞ্চগড়ে ফলাফল
কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ ৮৯ হাজার ৬৩৪ ভোট পেলেও বিএনপির আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ ১ লাখ ২৫ হাজার ২৬২ ভোট পেয়ে ৩৫ হাজার ৬২৮ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন।
পঞ্চগড়-১ আসনে এনসিপির সারজিস আলম ১ লাখ ৬৬ হাজার ১২৬ ভোট পেলেও বিএনপির নওশাদ জমির ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৩০ ভোট পেয়ে জয় নিশ্চিত করেন। ব্যবধান ৮ হাজার ৩০৪ ভোট।
অন্যান্য পরাজিত প্রার্থী
ঢাকা-১৬ আসনে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মো. আব্দুল বাতেন ৮৬ হাজার ৮২৩ ভোট পেয়ে জয়ী হন। বিএনপির আমিনুল হক পান ৮৪ হাজার ২০৭ ভোট।
এছাড়া এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু, বিএনপি নেতা এম এ কাইয়ুমসহ আরও কয়েকজন প্রভাবশালী প্রার্থীও পরাজিত হয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একাধিক আলোচিত ও হেভিওয়েট প্রার্থীর পরাজয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বার্তা দিয়েছে। শক্ত ঘাঁটি ও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে ভোটাররা তাদের রায় দিয়েছেন, যা আগামী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
এনএনবাংলা/

আরও পড়ুন
বিএনপির ঐতিহাসিক জয়ে যা বলছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম
বিএনপির ৭ ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী বেসরকারিভাবে বিজয়ী
জাতীয় পার্টির ভরাডুবি: একটিও আসন পায়নি জাপা