দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি ভেঙে এবার নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে খোলা প্রাঙ্গণে। বঙ্গভবনের বদলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিএনপি নেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেবে। একই দিনে সকালে দক্ষিণ প্লাজায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিন পর, শনিবার থেকেই শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে প্রস্তুতি শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয়। শনিবার রাতে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা জানান, সকালে সংসদ সদস্যদের এবং বিকেলে নতুন সরকারের শপথের আয়োজন রাখা হয়েছে দক্ষিণ প্লাজায়।
সংবিধান অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ নেওয়ার বিধান রয়েছে। শুক্রবার রাতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৯৭ আসনের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।
এবারের নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয় পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তাদের একসময়ের মিত্র জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে। বাকি আসনগুলোতে জয়ী হয়েছেন অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
সাধারণত নতুন সরকারের শপথ রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে পড়িয়ে থাকেন। তবে এবার ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত হলেও রাষ্ট্রপতি শপথ পড়াবেন কি না—এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দিতে চাননি সচিব কানিজ মওলা।
চব্বিশের আন্দোলনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারও বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ নিয়েছিল। ফলে এবারের স্থান পরিবর্তন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
এদিকে শপথ আয়োজনের মধ্যেই মন্ত্রিপরিষদ সচিব আব্দুর রশীদকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বঙ্গভবনের পক্ষ থেকেই দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু বর্তমানে দায়িত্ব পালনে অনুপস্থিত থাকায় সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নিয়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনারই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন।
সংসদ সদস্যদের শপথ শেষে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সংসদীয় বৈঠকে নেতা নির্বাচন করা হবে। পরে নির্বাচিত নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে সরকার গঠনের দাবি জানালে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হবে এবং এরপরই নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেবে।
এনএনবাংলা/পিএইচ

আরও পড়ুন
তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত কি ভালো সম্পর্ক গড়তে পারবে?
আল-জাজিরার বিশ্লেষণ: বিএনপি সরকারের হাত ধরে কি নতুন ভূ-রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা?
কেমন হতে পারে বিএনপির মন্ত্রিসভা, আলোচনায় যেসব নাম