February 16, 2026
Sunday, February 15th, 2026, 3:37 pm

শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ আসনে ৫৫ বছর পর বিএনপির প্রার্থীর বিশাল জয়

জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার:

মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেয়েছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব)। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে পোস্টাল ভোটসহ মোট ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় সমর্থিত জামাত জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-এর প্রার্থী মাওলানা নূরে আলম হামিদী পেয়েছেন ৫০ হাজার ২০৪ ভোট। ফলে বিজয়ী প্রার্থী ১ লাখ ২০ হাজার ৬৭৩ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেন। নির্বাচনে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন শ্রীমঙ্গলের সাবেক মেয়র ও বিএনপির বিদ্রোহী (বহিষ্কৃত) প্রার্থী মহসিন মিয়া মধু।

শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনটি স্বাধীনতার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির কোনো প্রার্থী এ আসনে জয়লাভ করতে পারেননি। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বাধীনতার প্রায় ৫৫ বছর পর বিএনপির প্রার্থীর এ বিশাল ব্যবধানে জয়কে স্থানীয়রা “ঐতিহাসিক” ও “ভূমিধস বিজয়” হিসেবে দেখছেন।

স্থানীয়দের মতে, এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় ভোটের সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসে। যদিও অতীতে ভোটারবিহীন এক নির্বাচনে বিএনপির শেখ শফিকুর রহমান এবং এরশাদ আমলে জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আহাদ মিয়া সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

দুই উপজেলায় মোট ১৮টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা রয়েছে। এবারের নির্বাচনে ২,৫০০ পোস্টাল ভোটারসহ মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৮ জন। মোট ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

বাতিল ভোটসহ মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৭২ হাজার ২৯৪টি, যা শতকরা প্রায় ৫৫ ভাগ।

বিশ্লেষক ও স্থানীয় ভোটারদের মতে, কয়েকটি বিষয় বিজয়ে প্রভাব ফেলেছে যে, প্রার্থীর দীর্ঘ ২৬ বছরের রাজনৈতিক উপস্থিতি, চা শ্রমিক, ২৬টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘু হিন্দু ভোটারদের আস্থা অর্জন, গ্রামীণ মুসলিম ভোটারদের মধ্যেও ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা, বিএনপির বিশাল কর্মীবাহিনীর তৃণমূলভিত্তিক প্রচার, বিএনপি ঘোষিত ৯টি নাগরিক সুবিধা, বিশেষ করে কৃষি ও ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতির প্রচারণা।

২০০১ সাল থেকে নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয় হাজী মুজিবের প্রধান প্রতিপক্ষ ছিলেন আওয়ামী লীগের সাতবারের এমপি ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধারাবাহিকতায় হাজী মুজিব একাধিক মামলা, হামলা ও নির্যাতনের শিকার হন। ২০০৯ সালের পর শতাধিক মামলায় প্রায় চার বছর কারাবরণও করেন। এসব ঘটনার ফলে এলাকায় তার প্রতি সহানুভূতি ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায় বলে স্থানীয়রা মনে করেন।

সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বেশি ভোটের ব্যবধানে বিএনপি প্রার্থীর বিজয়ের রেকর্ড বলে দলীয় সূত্র দাবি করেছে।

সব মিলিয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক লড়াই, সাংগঠনিক শক্তি এবং পরিবর্তিত নির্বাচনী সমীকরণ—এই তিনের সমন্বয়েই মৌলভীবাজার-৪ আসনে এ ঐতিহাসিক ফলাফল এসেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।