February 17, 2026
Tuesday, February 17th, 2026, 4:43 pm

ধানমন্ডিতে জোড়া খুন: গৃহকর্মী সুরভীর মৃত্যুদণ্ড

 

সাত বছর আগে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আফরোজা বেগম ও তার গৃহকর্মী দিতি হত্যা মামলায় গৃহকর্মী সুরভী আক্তার নাহিদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় একই বাসার কর্মী বাচ্চু মিয়াকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক তাওহীদা আক্তার এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের প্রসিকিউটর মাহফুজ হাসান।

তিনি জানান, মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি সুরভীকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে তাকে আরও পাঁচ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

তবে রায়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন বলে জানিয়েছেন এই আইনজীবী।

রায় ঘোষণার আগে দুই আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে সুরভীকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়। অন্যদিকে, বাচ্চু মিয়ার বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকলে তাকে মুক্তির নির্দেশ দেন আদালত।

খালাস পাওয়ার পর আদালত প্রাঙ্গণ থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে বাচ্চু ‘শুকরিয়া’ আদায় করেন। আর সুরভীর দাবি, তাকে ‘ফাঁসানো হয়েছে’।

এদিকে বাচ্চুর খালাসে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী আফরোজা বেগমের মেয়ে দিলরুবা সুলতানা রুবা।

এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি রায়ের দিন ধার্য ছিল। তবে রায় প্রস্তুত না হওয়ায় তা পিছিয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়।

২০১৯ সালের ১ নভেম্বর রাতে ধানমন্ডির ২৮ নম্বর (নতুন ১৫) রোডের ‘লোবেলিয়া হাউজ’ নামের একটি ভবনের পঞ্চম তলা থেকে আফরোজা বেগম (৬৫) ও তার গৃহকর্মী দিতির (১৮) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাদের দুজনকেই গলা কেটে হত্যা করা হয়েছিল।

আফরোজা বেগম ছিলেন টিমটেক্স গ্রুপের এমডি ও ক্রিয়েটিভ গ্রুপের ডিএমডি কাজী মনির উদ্দিন তারিমের শাশুড়ি। একই ভবনের উল্টো দিকের ফ্ল্যাট ও উপরের ছয়তলার ফ্ল্যাট নিয়ে ডুপ্লেক্সে স্বামী-সন্তানসহ বসবাস করেন তার মেয়ে দিলরুবা সুলতানা রুবা। তিনিই ৩ নভেম্বর ধানমন্ডি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের হাত ঘুরে মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই। ঘটনার প্রায় ২৭ মাস পর ২০২২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা মজিবুর রহমান দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন।

পরবর্তীতে ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত ৩২ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আফরোজা বেগম ও তার মেয়ে দিলরুবা সুলতানা রুবা পাশাপাশি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে দিলরুবা কাজের মেয়ে দিতিকে তার মায়ের ফ্ল্যাটে কাজের জন্য পাঠান।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মাকে ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় দিলরুবা তার বাসার কাজের ছেলে রিয়াজকে সেখানে পাঠান। রিয়াজ কলিং বেল চাপলেও কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ধাক্কা দিলে তা খোলা দেখতে পান।

ভেতরে ঢুকে তিনি ডাইনিং রুমের মেঝেতে আফরোজা বেগমকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পাশের গেস্টরুমে পাওয়া যায় দিতির রক্তাক্ত মরদেহ। পরে বিষয়টি জানানো হলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

এনএনবাংলা/