February 18, 2026
Wednesday, February 18th, 2026, 8:21 pm

তারাবির নামাজের নিয়ম, নিয়ত ও দোয়া

 

রমাজান মাসে এশার নামাজের পর বিতরের পূর্বে আদায়কৃত সুন্নত নামাজ তারাবি নামে পরিচিত। শরিয়তে তারাবির নামাজের রয়েছে অনেক ফজিলত। অনেকের মনেই সংশয় থাকে, যে নিয়ত ঠিকভাবে না করলে তারাবির নামাজ হবে কি না। এক্ষেত্রে নিয়ম হচ্ছে, নিয়ত বা অন্তরের সংকল্প ছাড়া তারাবি নামাজ হবে না, তবে মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত করা জরুরি বা বাধ্যতামূলক নয়। নিয়ত হলো মনে মনে এই ইচ্ছা করা যে, আপনি তারাবি নামাজ পড়ছেন। নামাজ শুরু করার আগে ‘নাওয়াইতু আন…’ বলে মুখে বলার প্রয়োজন নেই, অন্তরের ইচ্ছাই যথেষ্ট। 

তারাবি নামাজের নিয়ম:

তারাবির নামাজ দুই রাকাত করে পড়তে হয়। দুই রাকাত নামাজ আদায় করে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করা। এভাবে ৪ রাকাত আদায় করার পর একটু বিশ্রাম নেওয়া। তাসবিহ-তাহলিল পড়া বা কিছু সময় বিরতি নেওয়া উত্তম।

বিশ্রামের সময় তাসবিহ-তাহলিল পড়া, দোয়া-দরুদ ও জিকির-আজকার করা। এরপর আবার দুই দুই রাকাত করে আলাদা আলাদা নিয়তে তারাবি আদায় করা।

তারাবি নামাজের নিয়ত:

রমজান মাসে এশার নামাজের পর দুই রাকাত সুন্নত পড়ে তারাবির নামাজ আদায় করতে হয়। এ ক্ষেত্রে তারাবি নামাজের নিয়ত-

نويت ان اصلى لله تعالى ركعتى صلوة التراويح سنة رسول الله تعالى متوجها الى جهة الكعبة الشريفة الله اكبر

বাংলা: নাওয়াইতু আন উসালি­য়া ল্লিলাহি তাআ’লা, রাকাআ’তাই সালাতিত তারাবিহ সুন্নাতু রাসুল্লিলাহি তাআ’লা। মুতাওয়াযজ্জিহান ইলা যিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি, আল্লাহু আকবার।

এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, তারাবির নামাজ যদি জামাতের সঙ্গে আদায় হয় তবে, ‘সালাতিত তারাবিহ সুন্নাতু রাসুল্লিলাহি তাআ’লা’ এই অংশের পর ‘ইক্বতাদাইতু বি হাজাল ইমাম’ অংশটুকু যুক্ত করে পড়তে হবে।

তারাবি নামাজের দোয়া:

سُبْحانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ سُبْحانَ ذِي الْعِزَّةِ وَالْعَظْمَةِ وَالْهَيْبَةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَرُوْتِ سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِيْ لَا يَنَامُ وَلَا يَمُوْتُ اَبَدًا اَبَدَ سُبُّوْحٌ قُدُّوْسٌ رَبُّنا وَرَبُّ المْلائِكَةِ وَالرُّوْحِ

উচ্চারণ : ‘সুবহানা জিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি, সুবহানা জিল ইয্যাতি ওয়াল আঝমাতি ওয়াল হায়বাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিব্রিয়ায়ি ওয়াল ঝাবারুতি। সুবহানাল মালিকিল হাইয়্যিল্লাজি লা ইয়ানামু ওয়া লা ইয়ামুত আবাদান আবাদ; সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালায়িকাতি ওয়ার রূহ।’

চার রাকাত তারাবি আদায় করে বিশ্রাম বা বিরতির পর ব্যাপক প্রচলিত একটি দোয়া রয়েছে। যা দেশের প্রায় মসজিদে পড়া হয়। আর তা হলো-

উল্লেখ্য, তারাবি নামাজের ৪ রাকাত পর পর পড়ার এ দোয়াটি ব্যাপক প্রচলিত। তবে এ দোয়ার সঙ্গে তারাবি নামাজ হওয়া কিংবা না হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।

এমন নয়, এ দোয়া না জানলে বা তারাবি নামাজে না পড়লে নামাজ হবে না। বরং যে কোনো দোয়াই পড়া যাবে। তবে এ সময়টিতে কোরআন-সুন্নাহর দোয়া, তাওবাহ-ইসতেগফারগুলো পড়াই উত্তম।

তারাবি নামাজে মোনাজাত:

اَللَهُمَّ اِنَّا نَسْئَالُكَ الْجَنَّةَ وَ نَعُوْذُبِكَ مِنَ النَّارِ يَا خَالِقَ الْجَنَّةَ وَالنَّارِ- بِرَحْمَتِكَ يَاعَزِيْزُ يَا غَفَّارُ يَا كَرِيْمُ يَا سَتَّارُ يَا رَحِيْمُ يَاجَبَّارُ يَاخَالِقُ يَابَارُّ اَللَّهُمَّ اَجِرْنَا مِنَ النَّارِ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ- بِرَحْمَتِكَ يَا اَرْحَمَ الرَّحِمِيْنَ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকাল জান্নাতা ওয়া নাউজুবিকা মিনাননার। ইয়া খালিক্বাল জান্নাতি ওয়ান নার। বিরাহমাতিকা ইয়া আঝিঝু ইয়া গাফফার, ইয়া কারিমু ইয়া সাত্তার, ইয়া রাহিমু ইয়া ঝাব্বার, ইয়া খালিকু ইয়া বার্রু। আল্লাহুম্মা আঝিরনা মিনান নার। ইয়া মুঝিরু, ইয়া মুঝিরু, ইয়া মুঝির। বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন।’

অনেকেই ৪ রাকাত পর পর মোনাজাত করে থাকেন। আবার অনেকে পুরো নামাজ শেষ করে মোনাজাত একসঙ্গে মোনাজাত করেন।

তবে নামাজ শেষ করে বিতর পড়ে মোনাজাত করাই উত্তম। তারাবি নামাজের দোয়ার মতো এ মোনাজাতটিও নামাজ হওয়া বা না হওয়ার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। তবে মোনাজাতের শব্দগুলো অনেক চমৎকার ও প্রাঞ্জল।

অনেকে তারাবি নামাজের মোনাজাতের জন্য এ দোয়াটিকে আবশ্যক মনে করেন। কেউ কেউ এমনও মনে করে, এ দোয়াটি ছাড়া তারাবি নামাজের মোনাজাত হবে না। এ ধারণা মোটেও ঠিক নয়। তবে এ দোয়ায় মোনাজাত দিলে গোনাহ হবে তাও নয়।