February 19, 2026
Thursday, February 19th, 2026, 1:06 pm

জানুয়ারিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৮৭, আহত ১১৯৪

 

নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও হতাহতের সংখ্যা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত মাসে সারাদেশে মোট ৫৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৮৭ জন নিহত এবং ১ হাজার ১৯৪ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৬৮ জন নারী ও ৫৭ জন শিশু রয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত মাসিক দুর্ঘটনা বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব সূত্র থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ২০৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৯৬ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট মৃত্যুর ৪০ দশমিক ২৪ শতাংশ। একই সঙ্গে মোট দুর্ঘটনার ৩৭ দশমিক ২০ শতাংশই মোটরসাইকেল সংশ্লিষ্ট। এছাড়া ১৩২ জন পথচারী প্রাণ হারিয়েছেন, যা মোট মৃত্যুর ২৭ দশমিক ১০ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৬৭ জন (১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ)।

যানবাহনভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিহতদের মধ্যে বাসযাত্রী ২১ জন, ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর আরোহী ২৮ জন, প্রাইভেট কার-মাইক্রোবাস-অ্যাম্বুলেন্স-জিপ আরোহী ৯ জন, থ্রি-হুইলার যাত্রী ৭৭ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ১৩ জন এবং বাইসাইকেল আরোহী ১১ জন রয়েছেন।

এসব দুর্ঘটনায় মোট ৮৮৫টি যানবাহন জড়িত ছিল। এর মধ্যে ২১৭টি মোটরসাইকেল, ১৬৪টি থ্রি-হুইলার, ১৪৪টি ট্রাক এবং ১০৮টি বাসসহ অন্যান্য যানবাহন রয়েছে।

সড়কের ধরন অনুযায়ী দুর্ঘটনার সংখ্যা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জাতীয় মহাসড়কে ১৫৬টি, আঞ্চলিক সড়কে ২০৭টি, গ্রামীণ সড়কে ৮৫টি, শহরের সড়কে ১০৩টি এবং অন্যান্য স্থানে ৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার ধরন হিসেবে ২০৯টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১৩৫টি মুখোমুখি সংঘর্ষে, ১৩৭টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দিয়ে, ৭২টি পেছন থেকে আঘাতে এবং ৬টি অন্যান্য কারণে সংঘটিত হয়েছে।

সময়ভিত্তিক হিসাবে সকালে ২৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে। রাতে ঘটেছে ২৩ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং দুপুরে ১৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ দুর্ঘটনা।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ২৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ দুর্ঘটনা এবং ২৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ প্রাণহানি ঘটেছে। এ বিভাগে ১৪৩টি দুর্ঘটনায় ১১৯ জন নিহত হয়েছেন। বিপরীতে সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ২৪টি দুর্ঘটনায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজধানী ঢাকায় ২৬টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত এবং ৪১ জন আহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়কব্যবস্থা, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা ও মানসিক চাপ, নির্দিষ্ট বেতন ও কর্মঘণ্টার অভাব, মহাসড়কে স্বল্পগতির যান চলাচল, ট্রাফিক আইন অমান্য, দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্ষমতার ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তথ্য বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রতিদিন গড়ে ১৯ দশমিক ৬১ জন নিহত হলেও চলতি বছরের জানুয়ারিতে গড়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ৭০ জনে। সে হিসেবে প্রাণহানি প্রায় ১৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ কমেছে। তবে সংগঠনটির মতে, এটি স্থায়ী উন্নতির লক্ষণ নয়। সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান ও কার্যকর পরিবর্তন না এলে দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে না।

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে দক্ষ চালক তৈরি, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, ট্রাফিক আইন কঠোর প্রয়োগ, মহাসড়কে সার্ভিস রোড ও রোড ডিভাইডার নির্মাণ, গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ কার্যকর বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর গতি নিয়ন্ত্রণ ও ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

এনএনবাংলা/পিএইচ