February 20, 2026
Friday, February 20th, 2026, 4:52 pm

প্রথম আলোয় হামলা: অন্তর্বর্তী সরকারের ‘ব্যর্থতা’ স্বীকার ফাওজুল কবীর খানের

 

শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুকে ঘিরে প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার ‘ব্যর্থ’ বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক উপদেষ্টা ফাওজুল কবীর খান।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ব্যর্থতার দায় স্বীকার করেন। পোস্টে তিনি বলেন, হামলা ঠেকাতে অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার মধ্যে কোনো ‘যদি বা কিন্তু’ নেই।

ফাওজুল কবীর খান লেখেন, ‘অগ্নিদগ্ধ হতে সংবাদপত্রটিকে বাঁচাতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এ ব্যর্থতার দায় আমাদের। এখানে কোন যদি, বা কিন্তু নাই।’

তিনি আরও জানান, গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দগ্ধ ভবনে আয়োজিত একটি শিল্প প্রদর্শনী দেখতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকেই তিনি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন।

‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা অমার্জনীয়’

ফাওজুল কবীর খান বলেন, প্রথম আলো আক্রান্ত হওয়া দুঃখজনক হলেও এ ধরনের ঘটনা একেবারে বিরল নয়। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, উগ্রপন্থীদের হাতে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ক্যাপিটল হিল-এ হামলার ঘটনা ঘটেছিল।

তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সংবাদপত্রটি রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা ‘অমার্জনীয়’।

সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, কেবল উগ্রবাদীদের দোষারোপ করে এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। মতভিন্নতা ও পরমতসহিষ্ণুতা বজায় রেখে সব পক্ষের সঙ্গে সংলাপ শুরু করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি উল্লেখ করেন, দেশে ‘ইসলামপন্থী/উগ্রবাদীদের’ ওপর নৃশংসতা চালানোর অভিযোগ রয়েছে এবং প্রগতিশীলদের বিরুদ্ধে সে বিষয়ে সম্মতি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। সাংবাদিক শফিক রহমান-এর বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, সংগ্রাম ও নয়া দিগন্তে হামলার প্রতিবাদ হলে হয়তো প্রথম আলো আক্রান্ত হতো না।

সবশেষে তিনি আবারও প্রথম আলোয় অগ্নিসংযোগের নিন্দা জানান এবং এ ঘটনা প্রতিহত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করেন।

প্রসঙ্গত, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর গত ১৮ ডিসেম্বর রাত পৌনে ১১টার দিকে একদল হামলাকারী প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা চালায়। তারা শাটার ও কাচের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

একই সময়ে ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার ভবনেও হামলার ঘটনা ঘটে। এছাড়া সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট এবং পরদিন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী-এর কার্যালয়েও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

এনএনবাংলা/