বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর আরোপিত বিতর্কিত ‘পাল্টা শুল্ক’ (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) অবৈধ ঘোষণা করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া এক ঐতিহাসিক রায়ে আদালত জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে আইনের আওতায় শুল্ক আরোপ করেছিলেন, সেই আইন তাঁকে এমন ক্ষমতা দেয় না।
আদালতের রায়ে বলা হয়, ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) ব্যবহার করে এ ধরনের শুল্ক আরোপ করা সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। ৯ বিচারপতির বেঞ্চে ৬ জন শুল্কের বিপক্ষে মত দেন। ফলে গত বছরের ২ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া অতিরিক্ত শুল্ক ব্যবস্থা বাতিল হয়ে গেল।
রায়ের পর ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া: নতুন ১০% শুল্কের ঘোষণা
রায়ের পর হোয়াইট হাউসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি এই রায়কে ‘জাতির জন্য অসম্মানজনক’ আখ্যা দিয়ে বিচারপতিদের সমালোচনা করেন। পাশাপাশি বিকল্প আইনি পথ ব্যবহার করে বিশ্বের সব দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন।
ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, তিনি Trade Act of 1974 এবং Trade Expansion Act of 1962 ব্যবহার করে আরও কঠোর শুল্ক আরোপের পথে হাঁটতে পারেন। তবে ভারতের মতো কিছু দেশের সঙ্গে করা বিশেষ বাণিজ্য চুক্তি বহাল থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশের জন্য কী প্রভাব
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা নেওয়ার পর মার্কিন বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর নজিরবিহীনভাবে শুল্কারোপ শুরু করেন। সে সময় বাংলাদেশি পণ্যের ওপর রেকর্ড ৩৭ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হয়। পরবর্তীতে দীর্ঘ দরকষাকষির পর চলতি মাসের শুরুতে এক বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে তা ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়।
এর আগে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ নিয়মিত শুল্কের সঙ্গে ১৯ শতাংশ পাল্টা শুল্ক যোগ হয়ে মোট হার দাঁড়িয়েছিল ৩৪ শতাংশে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ১৯ শতাংশ বাতিল হলেও ট্রাম্পের নতুন ঘোষিত ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হলে মোট হার কত দাঁড়াবে—তা এখনও স্পষ্ট নয়।
গড় শুল্ক হারে পরিবর্তনের সম্ভাবনা
মার্কিন অর্থনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান EY-Parthenon-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ গ্রেগরি ডাকোর মতে, আদালতের রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের গড় শুল্ক হার সাময়িকভাবে ১৬.৮ শতাংশ থেকে কমে ৯.৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে ট্রাম্পের নতুন ঘোষণার পর এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে।
বিশ্ববাণিজ্যে বাড়ছে অনিশ্চয়তা
ট্রাম্পের ‘শুল্ক কূটনীতি’ ইতোমধ্যেই বিশ্ববাণিজ্যে অস্থিরতা তৈরি করেছে। নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক ঘোষণার ফলে সেই অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের রপ্তানি খাতের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন, এএফপি ও রয়টার্স
এনএনবাংলা/


আরও পড়ুন
লেবাননে ইসরাইলি বিমান ও ড্রোন হামলায় হিজবুল্লাহ কমান্ডারসহ নিহত ১২
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বিটিভিতে দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালা
শহীদ মিনারে ফুল দিতে বাধা: বিএনপিকে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন রুমিন ফারহানা