February 21, 2026
Saturday, February 21st, 2026, 2:19 pm

শহীদ মিনারে ফুল দিতে বাধা: বিএনপিকে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন রুমিন ফারহানা

 

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ে বিএনপির উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, দল এখনই স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ না করলে এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে স্থানীয় বিএনপির একাংশের হামলার শিকার হন তিনি। ঘটনার পর সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে রাত ১২টা ১ মিনিটে তারই সবার আগে পুষ্পস্তবক অর্পণের কথা ছিল।

তার দাবি, বিএনপির কিছু নেতাকর্মী তার ও তার সমর্থকদের ওপর হামলা চালায় এবং তাকে ধাক্কা দিয়ে একপাশে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এমনকি তার পুষ্পস্তবক ছিঁড়ে ফেলা হয়।

রুমিন ফারহানা বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনায় এসেছে। যদি দলীয়ভাবে এখনই স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করা না হয়, তাহলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে। দীর্ঘদিন চাপে থাকা কিছু নেতাকর্মী রাজনৈতিক পদ ব্যবহার করে হিংস্র আচরণ করার চেষ্টা করছেন, যা দলের জন্য ক্ষতিকর।”

তিনি এ হামলাকে ‘পূর্বপরিকল্পিত’ ও ‘ভয়ংকর হিংস্রতা’ বলে অভিহিত করেন। তার অভিযোগ, নির্বাচনে পরাজয়ের ক্ষোভ ও আর্থিক লেনদেনে ব্যর্থতার জের ধরে কিছু গুন্ডা প্রকৃতির লোক এ তাণ্ডব চালিয়েছে।

সরকার সদ্য দায়িত্ব নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দল ও সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় উশৃঙ্খলদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্যথায় এটি দলের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার রাত পৌনে ১২টার দিকে সরাইল উপজেলা সদরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পৌঁছান রুমিন ফারহানা। এ সময় সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী তাকে উদ্দেশ করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে রুমিন ফারহানার পুষ্পস্তবক ছিঁড়ে ফেলা হয়। পরে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার প্রতিবাদে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার সমর্থকেরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। প্রশাসনের আশ্বাসের পর প্রায় এক ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

এনএনবাংলা/