February 24, 2026
Tuesday, February 24th, 2026, 12:56 pm

পিলখানা হত্যা মামলায় প্রথমবার আসামি হচ্ছেন শেখ হাসিনা

 

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারির পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিস্ফোরক মামলাটি দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও আপিলের জটিলতা পেরিয়ে এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। বছরের পর বছর ধরে চলা এই বিচার প্রক্রিয়ায় আসামি ও নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের ধৈর্যের কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।

প্রসিকিউশনের দাবি, মামলার সাক্ষীদের জবানবন্দিতে তৎকালীন সরকারের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনা, শেখ তাপস, মির্জা আজম ও জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ আরও কয়েকজন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা। বিস্ফোরক মামলার চিফ প্রসিকিউটর বোরহান উদ্দিন জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের বক্তব্যে তাদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা হবে।

বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা এ মামলায় আসামির সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৮শ’। মোট ১২০০ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সাক্ষীদের মধ্যে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী তাদের জবানবন্দিতে উল্লিখিত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

৫ আগস্টের পর এই মামলার কয়েকশ’ আসামি জামিন পেয়েছেন বলেও জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পিলখানায় সংঘটিত ভয়াবহ এ ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা প্রাণ হারান। সুরক্ষিত স্থাপনা হিসেবে পরিচিত পিলখানায় এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে গোটা দেশ স্তম্ভিত হয়ে পড়েছিল।

এর আগে বিচারিক আদালত ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর রায় ঘোষণা করে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। পরবর্তীতে হাইকোর্ট ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। এছাড়া ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে ২৮৩ জন আসামি খালাস পান।

এনএনবাংলা/পিএইচ