Thursday, February 26th, 2026, 2:14 am

চট্টগ্রামের রাউজানে প্রকাশ্যে গুলি করে যুবদল কর্মীকে হত্যা

 

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় ইফতারের পর বাজারের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় আব্দুল মজিদ (৫৫) নামে এক যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার পূর্বগুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল মজিদ পূর্বগুজরা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আব্দুল মুনাফের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ঘটক ছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ইফতার শেষ করে বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে অলিমিয়াহাট বাজারের একটি ফলের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন আব্দুল মজিদ। এ সময় তিন থেকে চারজনের একটি সশস্ত্র দুর্বৃত্তের দল তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মো. হাবিবুর রহমান জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আব্দুল মজিদকে হাসপাতালে আনা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে তিনটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।

পূর্বগুজরা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ দীপ্ত দাশ রায় বলেন, ইফতারের পর বাজারে কয়েকজনের সঙ্গে আব্দুল মজিদের তর্কাতর্কি হয়েছিল। একপর্যায়ে তাকে গুলি করা হয়। ঘটনার কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন জানান, নিহত ব্যক্তি পেশায় একজন ঘটক ছিলেন। একটি বিষয় নিয়ে গত দুদিন ধরে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। বুধবার সন্ধ্যায় একই ইস্যুতে পুনরায় তর্কাতর্কির জেরে তাকে গুলি করা হয়। ইতোমধ্যে কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

নিহতের ভাই মো. আনোয়ার জানান, আব্দুল মজিদ সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী ছিলেন। বিগত সরকারের আমলে তিনি রাজনৈতিক মামলার শিকার হয়ে এলাকাছাড়া ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর এলাকায় ফিরে অলিমিয়াহাট বাজারের ইজারা নেন।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এনএনবাংলা/