রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ বৃহস্পতিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত ‘একুশে পদক ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি সমৃদ্ধ, নৈতিক ও আলোকিত সমাজ গঠনে গুণীজনদের দিকনির্দেশনার গুরুত্ব তুলে ধরেন। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্রে কৃতি মানুষের সংখ্যা যত বৃদ্ধি পায়, সমৃদ্ধির মানদণ্ডে সেই সমাজ তত বেশি আলোকিত হয়ে ওঠে। উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই রাষ্ট্র জ্ঞানী-গুণীদের সম্মানিত করে থাকে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিবিদরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকলেও প্রকৃত দিকনির্দেশকের ভূমিকা পালন করেন জ্ঞানী-গুণীজনরা। তাদের মেধা, সৃষ্টিশীলতা ও প্রজ্ঞা সমাজকে এগিয়ে নেয়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের প্রতিটি ঐতিহাসিক অর্জনে বিজ্ঞজনদের অবদান অনস্বীকার্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
‘একুশ আমাদের অবিনাশী চেতনা’—এমন মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর অতিক্রম করে আমরা এখন ৭৫ বছরে পদার্পণ করছি। একুশ কেবল একটি তারিখ নয়, এটি স্বাধিকার অর্জনের বীজমন্ত্র। একটি উদার ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের অভিযাত্রায় দেশের জ্ঞানী-গুণীদের দিকনির্দেশনা অব্যাহতভাবে প্রয়োজন বলেও তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রসত্তা তিনটি ঐতিহাসিক আলোকধারা—২১, ৭১ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তিতে নির্মিত। তার ভাষায়, ২১ আমাদের অস্তিত্বের শিক্ষা দিয়েছে, ৭১ শিখিয়েছে মর্যাদা, আর জুলাই শিখিয়েছে রাষ্ট্রকে ন্যায় ও জবাবদিহিতার আলোয় পুনর্গঠন করতে হয়। তিনি বলেন, সংস্কৃতিই জাতির আত্মাকে সুরক্ষা দেয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম বলেন, একুশে পদক শুধু একটি রাষ্ট্রীয় পুরস্কার নয়; এটি আদর্শ, দায়বদ্ধতা ও প্রেরণার প্রতীক। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সংস্কৃতি সচিব মো. মফিদুর রহমান। তিনি জানান, ১৯৭৬ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নয়জন গুণী ব্যক্তিকে পদক প্রদানের মাধ্যমে এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির যাত্রা শুরু করেন। ১৯৭৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মোট ৬০৫ জন ব্যক্তি ও নয়টি প্রতিষ্ঠান এ পদকে ভূষিত হয়েছেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গণির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক এবং সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের একুশে পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে অভিনয় বিভাগে রয়েছেন ফরিদা আক্তার ববিতা। চারুকলায় অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সাত্তার, স্থাপত্যে মেরিনা তাবাসসুম। সংগীতে মরণোত্তর সম্মাননা পেয়েছেন আইয়ুব বাচ্চু। নৃত্যে অর্থী আহমেদ এবং পালাগানে ইসলাম উদ্দিন পালাকার সম্মানিত হয়েছেন।
এছাড়া সাংবাদিকতায় শফিক রেহমান, শিক্ষাক্ষেত্রে অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম মজুমদার এবং ভাস্কর্যে তেজস হালদার জস একুশে পদক লাভ করেছেন। সংগীতাঙ্গনে বিশেষ অবদানের জন্য জনপ্রিয় ব্যান্ড ওয়ারফেজ-কেও এ পদকে ভূষিত করা হয়েছে।
ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ১৯৭৬ সাল থেকে একুশে পদক প্রদান করা হচ্ছে। পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেককে একটি স্বর্ণপদক, সম্মাননাপত্র এবং নির্ধারিত অঙ্কের অর্থ প্রদান করা হয়। শিক্ষা, শিল্পকলা, সমাজসেবা ও গবেষণাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের অগ্রগতিতে অবদান রাখা ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানানোর মাধ্যম হিসেবেই এই পদক প্রদান করা হয়ে থাকে।
এনএনবাংলা/পিএইচ


আরও পড়ুন
পাকিস্তানে একের পর এক অতর্কিত হামলা-অভিযান, পুলিশসহ নিহত ৪৫
হাজারীবাগে শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা, মূল অভিযুক্ত আটক
টিউলিপকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আদেশ