February 26, 2026
Thursday, February 26th, 2026, 8:33 pm

আল-জাজিরার বিশ্লেষণ: সংসদে ৬ আসন পাওয়া এনসিপির পরবর্তী লক্ষ্য কী?

 

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি মোহভঙ্গ হয়ে ছিলেন কুষ্টিয়ার ৩০ বছর বয়সী রুহুল আমিন। তিনি অপেক্ষায় ছিলেন একটি বিশ্বাসযোগ্য তৃতীয় শক্তির।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ছাত্রনেতারা যখন ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) গঠন করেন, তখন আমিন মনে করেন—অবশেষে তিনি এমন একটি দল পেয়েছেন, যাকে ভোট দেওয়া যায় এবং নিজের দল হিসেবে ভাবা যায়।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে এনসিপি। তরুণ নেতৃত্বের দলটি শুরুতে ব্যাপক জনসমর্থন ও সম্ভাব্য ভালো নির্বাচনী ফলাফলের দাবি করলেও বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় দ্রুতই।

সংসদে সিঙ্গেল ডিজিট: ৩০ আসনে লড়ে জয় ৬টিতে

গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপি ৩০০ আসনের মধ্যে মাত্র ৩০টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। নির্বাচনের আগে তারা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর সঙ্গে জোট করে।

ফলাফল—দলটির সমর্থনে নির্বাচিত হন মাত্র ৬ জন সংসদ সদস্য।

অন্যদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন জোট পায় ২১২টি আসন এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট পায় ৭৭টি আসন।

তবে সমর্থক রুহুল আমিন মনে করেন, নতুন দল হিসেবে এটি হতাশাজনক নয়। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, “নতুন দল হিসেবে আমরা ভালো করেছি। আগামী নির্বাচনে আরও ভালো করব।”

গণঅভ্যুত্থান থেকে সংসদে: অর্জন না অপূর্ণতা?

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া বেশ কয়েকজন এনসিপি নেতা এখন সংসদ সদস্য। সমর্থকদের মতে, মাত্র ১১ মাস বয়সী একটি দলের জন্য ৬টি আসন পাওয়া অপ্রত্যাশিত অগ্রগতি।

এনসিপির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ ফলাফলকে “উৎসাহব্যঞ্জক” বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, “এটি আরও ভালো হতে পারত। আমরা বেশি আশা করেছিলাম। কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা সন্তুষ্ট।”

তিনি অভিযোগ করেন, ভোট গণনায় অনিয়ম না হলে আরও ২–৩টি আসন পাওয়া সম্ভব ছিল। যদিও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণের প্রশ্নে তিনি বলেন, দল নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলাকালেই উদ্বেগ জানিয়েছে।

কেন জামায়াতের সঙ্গে জোট?

এনসিপি শুরুতে এককভাবে নির্বাচন করতে চাইলেও রাজনৈতিক বাস্তবতা তাদের জোটে যেতে বাধ্য করে বলে দাবি করেন আসিফ মাহমুদ। সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকাই ছিল মূল লক্ষ্য।

তবে এই সিদ্ধান্ত দলটির ভেতরে ফাটল সৃষ্টি করে। জোট ঘোষণার এক সপ্তাহের মধ্যে এক ডজনের বেশি সিনিয়র নেতা পদত্যাগ করেন। তাদের অভিযোগ, জামায়াতের সঙ্গে জোট ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মূল্যবোধ ও দলের ঘোষিত আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থান তুলে ধরতে এনসিপি এবার প্রথমবারের মতো একজন হিন্দু প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়।

মাহমুদ বলেন, “আমরা কোনো ছায়া রাজনীতি করছি না। আমাদের বক্তব্য জামায়াতের বক্তব্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়।”

পরবর্তী লক্ষ্য: একক লড়াই ও স্থানীয় নির্বাচন

এনসিপি জানিয়েছে, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তারা জামায়াতের সঙ্গে জোট করবে না। ভবিষ্যতে যেকোনো নির্বাচনে একক দল হিসেবে লড়াই করার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।

দলের নেতাদের ভাষ্য— রাস্তার আন্দোলন থেকে সংসদে পৌঁছানোই শেষ নয়; বরং এটি দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রার শুরু।

এখন তাদের লক্ষ্য তৃণমূল সংগঠন শক্তিশালী করা, আদর্শিক অবস্থান স্পষ্ট করা এবং তরুণ ভোটারদের আস্থা ধরে রাখা।

এনএনবাংলা/