শরণখোলা প্রতিনিধি:
ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম মাসুম হত্যার ঘটনায় নেতাকর্মীদের ক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে শরণখোলা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়ে মিছিল ও সমাবেশ শুরু হয়েছে ।
এসব সমাবেশ থেকে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ নাঈমকে জামায়াত এর এজেন্ট দাবী করে অবিলম্বে তার অপসারণ দাবি করা হয়েছে। জামায়াতকে স্বাধীনতা বিরোধী ও একটি সন্ত্রাসী দল আখ্যা দিয়ে তাদের প্রতিহত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার ( ৩ মার্চ) সকালে সুন্দরবন সংলগ্ন খুড়িয়াখালী গ্রামের ওয়াপদা বেরি বাঁধের উপর শত শত মানুষের উপস্থিতিতে মাসুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা পূর্ব আলোচনায় মাসুমের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে নেতৃবৃন্দ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারের জন্য সাত দিনের আল্টিমেটাম ঘোষণা করেন। তারা শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ নাঈমের অপসারণ দাবি করেন।
এ সময় বাগেরহাট জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক খাদেম নেয়ামুল নাসির আলাপ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন পঞ্চায়েত, সাবেক সভাপতি খান মতিয়ার রহমান, জেলা বিএনপি নেতা মোল্লা ইসাহাক আলী, সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন মিলন, সাউথখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম লিটন, যুবদল নেতা এম মাসুদ হোসাইন, রবিউল ইসলাম ও ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামিম শিকদার বক্তৃতা করেন।
এর আগে সোমবার রাতে আরিফুল ইসলাম মাসুম হত্যার প্রতিবাদে শরণখোলা উপজেলা সদরে উপজেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি উপজেলা সদর রায়েন্দা বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক চত্বরে সমাবেশে মিলিত হয়।
এতে বক্তৃতা করেন বাগেরহাট -৪ আসনের বিএনপি মনোনীত বিজিত প্রার্থী বাবু সোমনাথ দে, বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন পঞ্চায়েত, বেলাল হোসেন মিলন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইব্রাহিম মোল্লা, সদস্য সচিব আল আমিন খান, যুবদল নেতা এম মাসুদ হোসাইন, ছাত্রদলের আহবায়ক মামুন হোসেন ও সদস্য সচিব শামীম শিকদার।
এ সভায় বাবু সোমনাথ দে, নির্বাচন পরবর্তী বিভিন্ন হামলা, অগ্নিসংযোগ ও সহিংস ঘটনার কথা উল্লেখ করে জামায়াত নেতাকর্মীদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বিএনপি’র নেতাকর্মীদের ধৈর্য নিয়ে খেলবেন না।
তিনি ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম মাসুম হত্যার বিচার ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রশাসনের প্রতি সাত দিনের আল্টিমেটাম ঘোষণা করেন।
অপরদিকে, সোমবার দুপুরে শরণখোলা প্রেসক্লাবে উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে জরুরী সংবাদ সম্মেলন আহবান করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা জামাতের আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম কবির।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন,এটি কোন রাজনৈতিক ঘটনা নয়। এই হত্যাকাণ্ডে জামায়াত ইসলামীর কোন ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। ঘটনার সাথে জড়িতরা জামায়াতের কোন পর্যায়ের নেতা বা কর্মী নন। একটি মহল জামায়াতের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে জামাতের গায়ে চাপাতে চাচ্ছেন। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
রবিবার (১মার্চ) রাতে সুন্দরবন সংলগ্ন খুড়িয়াখালী গ্রামে সন্ত্রাসী হামলায় মালয়েশিয়া প্রবাসী ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম মাসুম নিহত হয়। এ ঘটনায় সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে নিহতের ভাই শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে শরণখোলা থানায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। পুলিশ এজাহারভূক্ত আসামি তানজের বয়াতি, খলিল বয়াতি ও শাহজালাল বয়াতি কে আটক করেছে।


আরও পড়ুন
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ হলেন মিয়ানুর উদ্দিন আহমেদ অপু
কমলগঞ্জে সমাজসেবা কার্যালয়ে ভোগান্তি: ৪ বছরেও মিলছে না বিধবা ভাতার বরাদ্দ
জামিন পেলেন গুলি করে হত্যার হুমকির ঘটনায় গ্রেফতার গালিব ও মিথুন