Sunday, March 8th, 2026, 4:36 pm

ফ্যাসিস্ট হাসিনা বিদেশে বসে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন: মির্জা ফখরুল

 

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত সরকারের সময়ে গুমের শিকার হওয়া পরিবারগুলোর অতর্কিত কষ্টের কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন।

রবিবার ‘মায়ের ডাক’ চলচ্চিত্রের শুভযাত্রা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী ঘোষণা দেন, গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে বিশেষ মাসিক ভাতা চালু করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, আজ আমরা কেউ মন্ত্রী হয়েছি, কেউ এমপি বা বড় পদে রয়েছি। কিন্তু যারা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে গিয়ে গুম হয়েছেন, তাদের সন্তানরা আজ অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। সরকারি বিভিন্ন ভাতা থাকলেও, এই পরিবারের জন্য এখনও কোনো বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আমি আজই প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখব, যেন তারা রাষ্ট্রীয়ভাবে মাসিক ভাতা পান। এটি কোনো দয়া নয়, এটি তাদের প্রাপ্য।

বক্তৃতাকালে মন্ত্রী একাধিকবার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন আগে রমজান মাসে বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে আমরা গুম হওয়া পরিবারের সন্তানদের নিয়ে প্রথম ইফতার মাহফিল করেছিলাম গুলশানের একটি হোটেলে। আজ পাশে তুলির মা, পেছনে মুন্নার মাকে দেখে সেই দিনের স্মৃতি মনে পড়ছে। মুন্নার বাবা তার সন্তানকে খুঁজতে খুঁজতে ভারতের পথ চলেছিলেন, কিন্তু বিচার না পেয়ে শেষমেশ অসুস্থ হয়ে মারা যান। এই পিতার হাহাকার ভোলা যায় না।

গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলির সাহসিকতার প্রশংসা করে মন্ত্রী তাকে ‘প্রকৃত হিরো’ হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, যখন সবাই কথা বলতেও ভয় পেত, তখন এই মেয়েটি একাই জেনেভায় হিউম্যান রাইটস কমিশনের কাছে লড়াই করেছে। তবে এক বড় দুঃখের বিষয়, যে মেয়েটি এত সংগ্রাম করেছে, তাকে আমরা নির্বাচনে জয়ী করতে পারিনি। এটি আমাদের জাতীয় ব্যর্থতা।

চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, ৫২-এর ভাষা আন্দোলনের পর আমাদের জাতীয় সংগ্রাম নিয়ে উচ্চমানের সাহিত্য বা শিল্পকর্ম খুব কমই দেখা গেছে। আশা করি ‘মায়ের ডাক’ চলচ্চিত্রটি সেই মান অর্জন করবে এবং আমাদের সংগ্রামের ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, আজ সেই ফ্যাসিস্ট মহিলা বিদেশে বসে বাংলাদেশের অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন, যা আমার মতে মানবতার বিরুদ্ধে একটি অপরাধ।

অন্ততঃ শেষ মুহূর্তে মন্ত্রী গুম হওয়া পরিবারগুলোর সন্তানদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের গুরুত্বে বিশেষ জোর দেন এবং সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

এনএনবাংলা/পিএইচ