Monday, March 9th, 2026, 4:51 pm

১০ দিন ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটে ইরান, বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন ৯ কোটি মানুষ

ছবি: ইপিএ

 

ইরানে সরকার আরোপিত নজিরবিহীন ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট সোমবার (৯ মার্চ) দশম দিনে পদার্পণ করেছে। এর ফলে দেশটির প্রায় ৯ কোটি মানুষ কার্যত বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।

সাইবার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘নেটব্লকস’ তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানিরা এখন পর্যন্ত টানা ২১৬ ঘণ্টা বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন।

সংস্থাটির তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে ইরানে ইন্টারনেটের সংযোগ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় মাত্র ১ শতাংশে নেমে এসেছে, যা প্রায় সম্পূর্ণ শাটডাউনের সমান। রাষ্ট্রীয় এই কঠোর বিধিনিষেধের ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন ভেঙে পড়েছে, তেমনি বহির্বিশ্বের সঙ্গে সব ধরনের তথ্য আদান-প্রদানও প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নেটব্লকস তাদের দৈনিক হালনাগাদ তথ্যে জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয়ভাবে চাপিয়ে দেওয়া এই শাটডাউনের মাধ্যমে প্রায় ৯ কোটি ইরানি নাগরিকের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ হয়ে গেছে। মূলত দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নতুন নেতৃত্বের অধীনে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ব্ল্যাকআউট কার্যকর করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় সাধারণ নাগরিকেরা জরুরি সেবা গ্রহণ, ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারছেন না। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই পদক্ষেপকে তথ্যের অবাধ প্রবাহে বড় ধরনের বাধা হিসেবে উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ১০ দিন ধরে চলা এই দীর্ঘমেয়াদি ব্ল্যাকআউট দেশটির সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের পাশাপাশি ইরানের ভঙ্গুর অর্থনীতিতেও বড় ধরনের আঘাত হানছে। বিশেষ করে অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসা ও যোগাযোগ নির্ভর খাতগুলো এখন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

নেটব্লকস জানিয়েছে, সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে ইরানের হাতে গোনা কয়েকটি সরকারি দপ্তর ছাড়া সাধারণ জনগণের জন্য ইন্টারনেটে প্রবেশের সুযোগ প্রায় নেই।

ফলে দেশটিতে কী ঘটছে, তা বহির্বিশ্বের পক্ষে জানা কঠিন হয়ে পড়েছে। তথ্যের এই শূন্যতা চলমান সংঘাত বা বিক্ষোভের খবর প্রকাশকেও সীমিত করে দিয়েছে।

নেটব্লকসের মতে, ইন্টারনেট সংযোগ ১ শতাংশে নেমে আসা মানেই দেশটিতে ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রায় ৯ কোটি মানুষকে এভাবে নীরব করে দেওয়ার ঘটনাকে সমসাময়িক ডিজিটাল ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ ইন্টারনেট শাটডাউন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন আন্তর্জাতিক চাপের মুখে তেহরান কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিই দেখার বিষয়।

এনএনবাংলা/