Monday, March 9th, 2026, 5:24 pm

জঙ্গল ছলিমপুরে ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠার দাবি ডিআইজির, অস্ত্র উদ্ধার, আটক ১৫

ছবি: সংগৃহীত

 

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ‘দুর্ভেদ্য সাম্রাজ্য’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া জঙ্গল ছলিমপুরে অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ‘পূর্ণ অধিকার ও আধিপত্য’ প্রতিষ্ঠা করেছে বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ।

সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর ২টার পর অভিযান নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ দাবি করেন তিনি।

ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ বলেন, এখানে মানুষ নানাভাবে নিপীড়িত ও নির্যাতিত ছিল এবং একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছিল। তারা সরকারের প্রচলিত নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে এসি ল্যান্ডের প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে নিজেরাই জমির কাগজ তৈরি ও জমি হস্তান্তরের কার্যক্রম পরিচালনা করত।

তিনি বলেন, “এখানে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে সাধারণ মানুষ সহজে প্রবেশ করতে পারত না। অনেক সময় পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও এখানে ঢুকতে ভয় পেত। এবার পঞ্চমবারের মতো আমরা এই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছি। এর আগে চারবার চেষ্টা করেও সফল হতে পারিনি।”

তবে সোমবারের অভিযানকে ‘সফল’ বলে দাবি করেন তিনি।

সকাল থেকে সন্ত্রাসীদের ধরতে চট্টগ্রামের জঙ্গল ছলিমপুরে পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিজিবি যৌথভাবে কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে অভিযান শুরু করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তিন হাজারের বেশি সদস্য কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে অভিযান পরিচালনা করছেন।

এদিকে অভিযান বাধাগ্রস্ত করতে সন্ত্রাসীরা জঙ্গল ছলিমপুরের কিছু দূরে একটি খালের ওপর নির্মিত কালভার্ট ভেঙে দেয়। পাশাপাশি আলীনগরের শুরুতে একটি বড় ট্রাক আড়াআড়ি করে রেখে চলাচল বন্ধের চেষ্টা করা হয়।

এই অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ জনকে আটক করার তথ্য দিয়েছেন ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ। এছাড়া অস্ত্র উদ্ধারের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

ডিআইজি হাবীব পলাশ বলেন, “এবার আমরা সম্মিলিতভাবে সফল হয়েছি। পুলিশের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব এবং জেলা প্রশাসনের বড় একটি অংশ একসঙ্গে কাজ করেছে। আমরা মনে করছি এই জায়গার উপর আমাদের পূর্ণ অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”

তিনি জানান, জঙ্গল ছলিমপুর এলাকায় এখন থেকে পুলিশ ও র‌্যাবের দুটি ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম যাতে নিয়মিতভাবে চালানো যায় সে জন্য বিভাগীয় কমিশনারকে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।

ডিআইজি বলেন, “এখানে যাতায়াতের ব্যবস্থা সহজ করতে এবং সরকারের পরিকল্পনায় থাকা উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। তা না হলে এই এলাকায় নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।”

অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, “অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। তবে নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে এখনো সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি। এই এলাকায় অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারায় ভবিষ্যতে আরও অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এটা অনেক বড় এলাকা। কত বড় জায়গা তা কল্পনাও করা কঠিন। আমরা এখন পুরো নিয়ন্ত্রণে আছি।”

কতজনকে আটক করা হয়েছে—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, “এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। অনকেকে পাওয়া যায়নি। হয়তো তারা আগে থেকেই খবর পেয়ে পালিয়ে গেছে। তল্লাশি অভিযান এখনো চলমান রয়েছে এবং আরও কয়েক ঘণ্টা অভিযান চলবে।”

এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি সীতাকুণ্ডের দুর্গম জঙ্গল ছলিমপুর এলাকায় অভিযান চালাতে গিয়ে স্থানীয়দের হামলায় র‌্যাব-৭ এর সদস্য নায়েক সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন।

তৎকালীন অভিযানের বিষয়ে র‌্যাব-৭ জানায়, বিকাল সোয়া ৪টার দিকে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে সেখানে অভিযান চালানো হয়েছিল। এ সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন দুষ্কৃতকারী অতর্কিত হামলা চালায়।

পরবর্তীতে নিহত সদস্যের জানাজায় এসে র‌্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহীদুর রহমান জঙ্গল ছলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দেন।

উল্লেখ্য, জঙ্গল ছলিমপুরের পাহাড়ি এলাকায় বসতি স্থাপন শুরু হয় ২০০৪ সাল থেকে। শুরুতে সেখানে নিঃস্ব ও ভূমিহীন মানুষের বসবাস ছিল। পরে পাহাড়ি জমি দখলকে কেন্দ্র করে সেখানে একাধিক চক্রের আধিপত্য গড়ে ওঠে।

এনএনবাংলা/