Tuesday, March 10th, 2026, 3:32 pm

জ্বালানিতে সংকট নেই, তাই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তও নেই: প্রতিমন্ত্রী

 

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সচিবালয়ে জ্বালানি তেল সংক্রান্ত সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। ফলে আপাতত তেলের দাম বাড়ানোরও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

তিনি বলেন, মার্চ মাসে জ্বালানি তেলের সরবরাহে কোনো সমস্যা দেখা যায়নি। যদিও বিভিন্ন স্থানে কিছুটা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে, তবে তা খুব দ্রুতই কেটে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সরকার এপ্রিল ও মে মাসের সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, তেলের বিকল্প উৎস নিশ্চিত করতে আফ্রিকা ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানির বিষয়েও কাজ চলছে। পাশাপাশি ভারতের কাছ থেকেও অতিরিক্ত তেল সরবরাহের বিষয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বর্তমানে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ১৫ হাজার টন তেল আসে। সুযোগ থাকলে এ সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, পেট্রোল ও অকটেন পুরোপুরি আমদানিনির্ভর নয়। তবুও কিছু এলাকায় অযৌক্তিকভাবে তেল পাম্পে দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কোনো অসাধু চক্র সক্রিয় আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে জনদুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে রাইড শেয়ারিং সেবায় নিয়োজিত মোটরসাইকেল চালকদের সুবিধার্থে আজ (মঙ্গলবার) থেকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫ লিটার করে তেল সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশে অবস্থানরত কূটনৈতিক মিশনের যানবাহনের জন্য জ্বালানি তেল গ্রহণের সীমা তুলে দেয়ার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে।

অন্যদিকে মোটরসাইকেলে তেল সরবরাহের সীমা ২ লিটার থেকে বাড়িয়ে ৫ লিটার করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য যানবাহনের জন্য নির্ধারিত রেশনিংয়ের পরিমাণ পর্যালোচনার বিষয়েও ভাবা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, বর্তমানে দেশে প্রতিদিন প্রায় ৯ হাজার ২২ টন ডিজেল, ১ হাজার ৭০ টন পেট্রোল এবং ৯১৩ টন অকটেন সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে সরবরাহ আরও বাড়ানোর বিষয়েও সরকারের পক্ষ থেকে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

এনএনবাংলা/পিএইচ