Wednesday, March 11th, 2026, 7:36 pm

২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচার: সাবেক মন্ত্রী জাবেদ ও স্ত্রীর বিচার শুরু

 

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড (ইউসিবিএল)-এর ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তার স্ত্রী রুকমিলা জামানসহ ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত।

বুধবার চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমান অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর জন্য আগামী ৫ এপ্রিল দিন ধার্য করেন।

দুদকের আইনজীবী মোকাররম হোসাইন জানান, সাবেক ভূমিমন্ত্রী এবং তার স্ত্রীসহ মামলার ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এদিন মামলার ৮ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং বাকি আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

জানা গেছে, জাবেদ-রুকমিলা দম্পতির বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তারা বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারির নির্দেশ দেয় আদালত।

এর আগে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. হাসানুল ইসলাম অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের এ মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রীসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান গত ৫ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

মামলার অন্য আসামিরা

মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে আছেন জাবেদের ছোট ভাই আসিফুজ্জামান, বোন রোকসানা জামান এবং ইউসিবিএল ও আরামিট গ্রুপের কয়েকজন কর্মকর্তা।

দুদকের আইনজীবী রেজাউল করিম রনি জানান, সাবেক মন্ত্রী জাবেদের বিরুদ্ধে এটিই দুদকের দেওয়া প্রথম অভিযোগপত্র।

গত বছরের ২৪ জুলাই জাবেদ ও তার স্ত্রীসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে দুদকের উপ-পরিচালক মশিউর রহমান চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করেন। পরে তদন্তে আরও সাতজনের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাদের আসামি করা হয়।

তদন্তে যা উঠে এসেছে

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আরামিট গ্রুপের প্রটোকল অফিসার ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে ব্যবসায়ী সাজিয়ে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স করা হয়।

এই প্রতিষ্ঠানের নামে ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর ইউসিবিএলের চট্টগ্রামের পোর্ট শাখায় একটি চলতি হিসাব খোলা হয়। পরে গম, হলুদ, ছোলা ও মটর আমদানির কথা বলে ১৮০ দিনের জন্য টাইম লোনের আবেদন করা হয়।

নেতিবাচক প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ যাচাই-বাছাই ছাড়াই ঋণ অনুমোদন করে। পরে ঋণের টাকা চারটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান—

  • আলফা ট্রেডার্স
  • ক্লাসিক ট্রেডার্স
  • মডেল ট্রেডিং
  • ইম্পেরিয়াল ট্রেডিং

এর ব্যাংক হিসাবে পে-অর্ডারের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়। পরে সেখান থেকে নগদ উত্তোলন ও অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, এসব অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করে সম্পত্তি কেনা হয় এবং জাবেদের মালিকানাধীন আরামিট সিমেন্ট ও আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়াম লিমিটেডের হিসাবে জমা করে দায় সমন্বয় করা হয়।

একাধিক মামলার মুখে সাবেক মন্ত্রী

ব্যাংক ঋণ জালিয়াতি ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বিরুদ্ধে দুদক ইতোমধ্যে ৩০টি মামলা করেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ভুয়া কোম্পানি দেখিয়ে ব্যাংক ঋণ নিয়ে সেই অর্থ বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর এবং বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

সম্প্রতি আরামিট গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আরামিট সিমেন্ট পিএলসি-এর নামে ঋণ নিয়ে ভুয়া সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১৪১ কোটি ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে আরও তিনটি মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

বিদেশে বিপুল সম্পদ জব্দ

২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জাবেদের বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগ ওঠে।

আদালতের আদেশে ইতোমধ্যে জাবেদ ও তার স্ত্রীর নামে—

  • যুক্তরাজ্যে ৩৪৩টি,
  • সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২২৮টি,
  • যুক্তরাষ্ট্রে ৯টি

সম্পত্তিসহ অন্যান্য স্থাবর সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশে তাদের ব্যাংক হিসাবও জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এনএনবাংলা/