জাতীয় সংসদ যেন কারও ব্যক্তিগত আক্রমণ বা চরিত্রহননের মঞ্চে পরিণত না হয়—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন শফিকুর রহমান, যিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদ-এর প্রথম অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, অতীতের সংসদে দেশের মানুষের কল্যাণমূলক বিষয় নিয়ে আলোচনা তুলনামূলক কম হলেও অনেক সময় ব্যয় হয়েছে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও চরিত্রহননের মতো বিষয়ে। নতুন সংসদে সেই ধরনের নেতিবাচক নজির আর যেন না ঘটে—এমন প্রত্যাশা করেন তিনি।
স্পিকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, সরকার ও বিরোধী দলকে সমানভাবে দেখবেন—এমনটাই তাদের আশা। জাতির কল্যাণে বিরোধী দল যে কথা বলতে চায়, তা যেন সংসদে বলার যথেষ্ট সুযোগ পাওয়া যায় বলেও তিনি প্রত্যাশা করেন।
তিনি আরও বলেন, স্পিকারের নেতৃত্বে সংসদ একটি কার্যকর ও গতিশীল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে—এমন আশা রয়েছে। অতীতে যে ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সংসদে দেখা গেছে, নতুন সংসদে তা যেন আর না ঘটে সে প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, এবারের সংসদে অনেক নতুন ও তরুণ সদস্য রয়েছেন। নিজের প্রথম সংসদ সদস্য হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বয়সে কিছুটা বেশি হলেও তিনিও নিজেকে নতুন সদস্যদের মতোই একজন তরুণ মনে করেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে স্পিকারকে অনুরোধ করে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ যেন আর কখনও কারও চরিত্রহননের জায়গায় পরিণত না হয় এবং এ ধরনের সুযোগ কাউকে যেন দেওয়া না হয়।
বক্তব্যের শেষে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন সময়ে বহু মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, কেউ প্রাণ দিয়েছেন, আবার অনেকে গুম হয়েছেন। সে সময়ের একটি স্লোগানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন উই ওয়ান্ট জাস্টিস, অর্থাৎ আমরা ন্যায়বিচার চাই।
এনএনবাংলা/পিএইচ


আরও পড়ুন
ইফতারের সময় জ্ঞান হারিয়ে হাসপাতালে ভর্তি মির্জা আব্বাস
রাষ্ট্রপতির নাম ঘোষণার পরই সংসদে হট্টগোল, বিরোধী দলের ওয়াকআউট
সংসদের দর্শকসারিতে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে ড. ইউনূস