Thursday, March 12th, 2026, 4:11 pm

কুলাউড়ায় পরকিয়ার জেরে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, ঘাতক গ্রেপ্তার

জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার :

কুলাউড়া উপজেলায় নিখোঁজের একদিন পর রিপন মিয়া (২৮) নামের এক যুবকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নের চকসালন এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত রিপন মিয়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামের আব্দুল হান্নান ওরফে হানু মিয়ার ছেলে। পরকিয়ার জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকান্ডটি সংঘটিত হয়েছে বলে পুলিশের ধারণা।

এদিকে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ পৃথিমপাশা ইউনিয়নের আমুলী গ্রামের জমসেদ আলীর ছেলে সিএনজি চালক সাকিব আহমদ (২৪) কে গ্রেপ্তার করেছে। এই নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনায় আলীনগর গ্রামসহ স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত এই হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি  করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ৯ মার্চ রাত ১১টার পর থেকে রিপন নিখোঁজ ছিলেন। তার মুঠোফোনও ছিলো বন্ধ। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে তাকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। একপর্যায়ে মঙ্গলবার ১০ মার্চ রাতে টিলাগাঁও ইউনিয়নে মনু নদীর তীরবর্তী চকসালন এলাকায় রেললাইনের পাশে রিপন মিয়ার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

আরো জানা গেছে, পৃথিমপাশা ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামের বাসিন্দা জমসেদ আলীর ছেলে সিএনজি অটোরিকশা চালক সাকিব মিয়ার সাথে নিহত রিপনের সম্পর্ক ছিল। সেই সুবাদে নিহত রিপনের বাড়িতে আসা যাওয়া ছিলো সাকিবের। একপর্যায়ে নিহত রিপনের মিয়ার স্ত্রীর সাথে পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়েন চালক সাকিব। বিষয়টি জানাজানি হলে নিহত রিপন ও সাকিবের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। রিপনের স্ত্রী ও ঘাতক সাকিবের পরকিয়ার প্রেমের ভিডিও ক্লিপ রয়েছে বলেও স্থানীয় লোকজন জানান। ঘটনার জের ধরে সাকিব পরিকল্পিতভাবে রিপনকে ঘটনাস্থলে নিয়ে ক্রিকেট খেলার স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে রিপনের শরীরে ছুরি দিয়ে একাধিক আঘাত করে ঘাতক সাকিব। এতে ঘটনাস্থলে রিপন মারা যায়।

কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মোল্যা বলেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সাকিবকে গ্রেপ্তার করার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে পুলিশের কাছে সে  স্বীকারোক্তি দিয়ে বলে, রিপনের স্ত্রীর সাথে তার সখ্যতা ছিল। সে রিপনকে স্টাম্প ও ছুরি দিয়ে হত্যা করেছে। তার দেখানোমতে ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত আলামত ও সিএনজি অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে। ঘাতক সাকিবকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে নিহত রিপনের পিতা আব্দুল হান্নান বাদী হয়ে ঘাতক সাকিবকে প্রধান আসামী করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।