পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীসহ সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে জমে উঠেছে সেমাইয়ের বাজার। বাঙালির ঈদ উদযাপনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এই ঐতিহ্যবাহী খাবারের চাহিদা বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বেচাকেনা বাড়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা, আর দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকায় স্বস্তিতে রয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সেমাইয়ের বার্ষিক বাজার এখন ১ হাজার কোটি টাকার বেশি। শুধু দুই ঈদে আছে ৭০০ কোটি টাকার সেমাইয়ের বাজার। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে দেশীয় করপোরেট কোম্পানিগুলো। শুধু দেশেই নয়, প্রায় ৪০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশি সেমাই।
রাজধানীর কাওরানবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খোলা ও প্যাকেটজাত—দুই ধরনের সেমাইয়েরই চাহিদা রয়েছে। খোলা সেমাইয়ের মধ্যে লাল-হলুদ রঙের মিশ্রণও বিক্রি হচ্ছে। কিছু ক্রেতা ঐতিহ্যবাহী এই রঙিন সেমাই কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
ক্রেতাদের মধ্যে কাঁঠালবাগানের আনিস জানান, “ঈদে সেমাই ছাড়া চলেই না। আমাদের পরিবারে কয়েকদিনই সেমাই খাওয়া হয়, তাই লাচ্ছা ও বাংলা—দুটোই বেশি করে কিনেছি।” তবে তিনি খোলা সেমাইয়ের তুলনায় প্যাকেটজাত সেমাই কেনাকেই বেশি নিরাপদ মনে করেন।
অন্যদিকে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত এলাকাগুলোতে খোলা সেমাইয়ের বিক্রি বেশি দেখা গেছে। রাজধানীর মান্ডা, ধোলাইপাড়, দনিয়া, শনিরআখড়া, কেরানীগঞ্জ, ধূপখোলা ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় খেটে খাওয়া মানুষের মধ্যে খোলা সেমাইয়ের চাহিদা বেশি।
দামের দিক থেকে বাজারে ভিন্নতা দেখা গেছে। খুচরা পর্যায়ে ২০০ গ্রাম লাচ্ছা সেমাইয়ের প্যাকেট কোম্পানিভেদে ৪৫ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাংলা সেমাইয়ের প্যাকেট ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে রয়েছে। এছাড়া বিশেষ ঘিয়ে ভাজা বা প্রিমিয়াম সেমাইয়ের প্যাকেট ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
খোলা লাচ্ছা সেমাই কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা এবং খোলা চিকন (বাংলা) সেমাই ১৩০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের মতে, গত বছরের তুলনায় এ বছর দাম খুব বেশি বাড়েনি; প্যাকেটপ্রতি মাত্র ৫ থেকে ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে বছরে সেমাইয়ের চাহিদা ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টন। বর্তমানে ৪০টির বেশি কোম্পানি সেমাই উৎপাদন ও বাজারজাত করছে। পাশাপাশি মৌসুমি ছোট প্রতিষ্ঠানও ঈদকে কেন্দ্র করে খোলা ও প্যাকেটজাত সেমাই উৎপাদন করছে। তবে বাজারে বড় কোম্পানিগুলোর আধিপত্যই বেশি।
এদিকে ঈদকে ঘিরে শুধু সেমাই নয়, চিনি, গুঁড়ো দুধ, কিসমিস ও আলু বোখরার চাহিদাও বেড়েছে। বাজারে মানুষের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রিও বেড়েছে, যা ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।
এনএনবাংলা/


আরও পড়ুন
দেশের আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি, শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতর
ঈদ শপিংয়ে বের হয়ে ছিনতাইয়ের শিকার, রিকশা থেকে পড়ে গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন নরেন্দ্র মোদি