Monday, March 23rd, 2026, 6:42 pm

ঈশ্বরদীতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ৩৫

ছবি: সংগৃহীত

 

পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ৩০-৩৫ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শটগান দিয়ে ৮-১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

সোমবার দুপুরে ঈশ্বরদীর রেলগেট থেকে পোস্ট অফিস মোড় পর্যন্ত এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় পুরো শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে চলে যান এবং শহরে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

সংঘর্ষ চলাকালে উত্তেজিত কর্মীরা দুটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে এবং কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এছাড়া বিএনপির একটি পক্ষের কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিলসহ আসবাবপত্রও ভাঙচুর করা হয়।

হাবিব গ্রুপের আহতদের মধ্যে রয়েছেন মাহাবুবুর রহমান পলাশ, রফিকুল ইসলাম রকি, নুরে আলম শ্যামল, লিটন, জাকারিয়া, আলমগীর, নাজমুল, নাসির, চঞ্চল, নান্টু, সেন্টু, আশরাফুজ্জামান, কামরুল ইসলামসহ অনেকে।

অন্যদিকে জাকারিয়া পিন্টু গ্রুপের মনোয়ার, রাজিব, অন্তর, কবির, পলাশ, আক্তার, শরিফ, শিহাব, ফজলু, জুয়েলসহ অন্তত ১০-১২ জন আহত হয়েছেন।

আহতদের ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত নুরে আলম শ্যামলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের আগে চাঁদরাতে দুই পক্ষের মধ্যে পূর্বের সহিংসতার জের ধরে উত্তেজনা তৈরি হয়। ওই ঘটনায় আব্দুল্লাহ রউফ আব্দুল গুরুতর আহত হন।

এ ঘটনার পর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, বাড়িঘর ভাঙচুর এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কটূক্তি পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

সোমবার সকালে জাকারিয়া পিন্টু গ্রুপ মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন করে। এর পাল্টায় হাবিবুর রহমান হাবিব গ্রুপও বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

দুই পক্ষ রেলগেট এলাকায় মুখোমুখি হলে উত্তেজনা চরমে ওঠে। এ সময় গুলি ছোড়ার অভিযোগ ওঠে, যা থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার জানান, সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশ মিছিলের গতিপথ পরিবর্তনের অনুরোধ করলেও তা উপেক্ষা করা হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র‌্যাব মোতায়েন রয়েছে।

এনএনবাংলা/